
দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ৬ষ্ঠ ব্যাচের লিখিত পরীক্ষা। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এ পরীক্ষায় অংশ নেবেন ৬০ হাজার পরীক্ষার্থী।
ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির এ ব্যাচে মোট ৪ হাজার ৮০০টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ১ লাখ ১০ হাজার ৭৪৩ জন। সেখান থেকে বাছাই করা আবেদনকারীদের নিয়ে এই লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে একযোগে অনুষ্ঠিত হওয়া এ পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচন করা হবে, যারা পরবর্তীতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচি ধাপে ধাপে সম্প্রসারিত হয়ে এবার দেশের সব জেলায় পৌঁছেছে। এর আগে প্রকল্পটি প্রথমে ১৬ জেলায় এবং পরে ৪৮ জেলায় বাস্তবায়িত হয়। বর্তমানে ১৬ ও ৪৮ জেলা মিলিয়ে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা এ উদ্যোগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আয়োজন। মাঠপর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এবার প্রায় ৬০ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হবে ৪ হাজার ৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে। অর্থাৎ প্রতিটি আসনের বিপরীতে গড়ে ১২ থেকে ১৩ জন পরীক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এই পরিসংখ্যান দেশের তরুণ সমাজের মধ্যে ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের প্রতি ক্রমবর্ধমান আগ্রহেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আগামী ৭ মার্চ মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেবে। এরপর চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিটি জেলায় ৭৫ জন করে প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে শুরু হবে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের ৬ষ্ঠ ব্যাচ।
এদিকে রাজধানীর কল্যাণপুরে অবস্থিত ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় প্রায় চার হাজার পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। একদিনে এত বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণ এ খাতে একটি বড় আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এই প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত মোট ১০ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশ, অর্থাৎ ৬ হাজার ৭৩২ জন প্রশিক্ষণার্থী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করে আয় করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের মোট আয় প্রায় ১৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬৩৬ মার্কিন ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ কোটি ৭০ লাখ ১৪ হাজার ৪১৬ টাকার সমপরিমাণ।
এর আগে ১৬ জেলায় বাস্তবায়িত পর্যায়ে ৬ হাজার ৪০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫১৭ জন আয়মুখী কাজে যুক্ত হতে সক্ষম হয়, যা ছিল প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি সাফল্য। ওই পর্যায়ে মোট আয় হয়েছিল প্রায় ১৫ লাখ ৮১ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকার সমমান।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধারাবাহিক এই উদ্যোগ ও সাফল্যের মাধ্যমে দেশের তরুণ সমাজ আরও ব্যাপকভাবে বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং বাজারে যুক্ত হবে এবং ভবিষ্যতে এ খাতে আয় আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।