
রাজধানীর চিরচেনা ট্রাফিক জট সামাল দেওয়ার পর এবার হর্নের তীব্র আওয়াজ ও শব্দদূষণের লাগাম টানতেও নামানো হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, ঢাকার শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সংস্থাটি।
আজ শুক্রবার (৫ জুন) বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর গুলশান এলাকায় আয়োজিত শব্দদূষণ বিরোধী এক সচেতনতামূলক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।
পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের মানসিকতা পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, "যদি আমাদের মাইন্ড সেটাপ থাকে আমরা পরিবেশ নিয়ে সচেতন হবোই, তাহলে যেকোনো কিছু বাস্তবায়ন করা যাবে। আমরা আমাদের দ্বায়িত্ব পালন করছি, যারা পরিবেশ নিয়ে কাজ করেন তারাও এগিয়ে আসবেন।"
তিনি আরও বলেন, "একদিনে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ধাপে ধাপে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে।"
প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন, ঢাকা শহরের সড়কগুলোতে এআই-নির্ভর ট্রাফিক সিগন্যাল ও ব্যবস্থাপনা চালু করে ইতিমধ্যেই বেশ ইতিবাচক ফলাফল মিলেছে। সেই সফলতার সূত্র ধরেই এবার নগরের হর্ন ও উচ্চ শব্দ পর্যবেক্ষণ এবং তা প্রতিরোধে এআই প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, আজ থেকেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও এর আশেপাশের সংলগ্ন এলাকাগুলোতে শব্দদূষণ রোধে অত্যন্ত কঠোর আইনি পদক্ষেপ বলবৎ করা হবে। নির্দিষ্ট নীরব এলাকার নিয়ম অমান্য করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি উচ্চশব্দ বা হর্ন তৈরি করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিশ্ব পরিবেশ দিবসের বিশেষ এই কর্মসূচিতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, মানবদেহে শব্দদূষণের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব এবং তিলোত্তমা নগরী গড়ে তুলতে নাগরিকদের পরিবেশবান্ধব আচরণ ও খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়।