
পর্দাজুড়ে রক্তারক্তি, মারপিট আর নৃশংস হত্যাকাণ্ড- বর্তমান বাণিজ্যিক সিনেমায় হিংসার এমন বাড়বাড়ন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিনেত্রী রাধিকা আপ্তে। তাঁর মতে, পর্দায় একের পর এক মানুষকে নির্মমভাবে মারধর করা হচ্ছে, মাথা থেঁতলে দেওয়ার মতো দৃশ্য দেখানো হচ্ছে, আর দর্শক সেসব দেখতে দেখতেই নিশ্চিন্তে পপকর্ন খাচ্ছেন। বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না তিনি। তাই এমন হিংসাত্মক সিনেমার অংশ হতে চান না এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি মা হয়েছেন রাধিকা। মাতৃত্বের নতুন অধ্যায়ে মেয়েকে ঘিরেই এখন তাঁর ভাবনায় এসেছে জীবনের নানা দিক। সেই ভাবনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পর্দায় হিংসার উপস্থাপনাও। নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ ও শিল্পবোধের সঙ্গে বর্তমান সময়ের অনেক বাণিজ্যিক ছবির সংঘাত রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আসন্ন নেটফ্লিক্স সিরিজ ‘আক্কা’র প্রচারে গিয়ে সিনেমায় হিংসার আধিক্য নিয়ে মুখ খোলেন রাধিকা। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে বাণিজ্যিক ছবিতে মারকাটারি অ্যাকশন ও নৃশংস দৃশ্যের আধিক্য তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলে। পর্দায় ৫০ জন নারী-পুরুষকে নির্মমভাবে মারধর করা হচ্ছে, তাঁদের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে। আর দর্শক নির্বিকারভাবে সেই দৃশ্য উপভোগ করছেন- বিষয়টি তাঁর কাছে বিস্ময়কর।
অভিনেত্রীর মতে, একটি ছবিতে কারও মাথা বেসিনের ওপর আছড়ে ভেঙে দেওয়ার দৃশ্য দেখানো হচ্ছে, আবার অন্য ছবিতে শক্ত কোনো পৃষ্ঠের ওপর মাথা থেঁতলে দেওয়ার মতো দৃশ্য তুলে ধরা হচ্ছে। এমন নৃশংসতাকে সৃজনশীলতার পরিচয় হিসেবে দেখতে রাজি নন তিনি।
রাধিকার কাছে সিনেমা মানে শুধু দর্শককে চমকে দেওয়া কিংবা হিংসাত্মক দৃশ্যের মাধ্যমে বিনোদন তৈরি করা নয়। গল্প বলার ক্ষেত্রে নির্মাতাদের দায়িত্ববোধ থাকা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।
বর্তমানে বাণিজ্যিক সিনেমায় যে ধরনের হিংসাত্মক দৃশ্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, তার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে চান না রাধিকা। বরং নিজের পছন্দ, শিল্পবোধ ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কাজকেই প্রাধান্য দিতে চান এই অভিনেত্রী।