
সৌরবিদ্যুতের স্থাপন ও বিস্তার ত্বরান্বিত করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ-২০২৬’ জারি করা হয়েছে। অধ্যাদেশে সরল বিশ্বাসে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে দেওয়ানি কিংবা ফৌজদারি মামলা বা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা গ্রহণ না করার বিধান রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণে সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বিধি প্রণয়ন করতে পারবে।
অধ্যাদেশের ১৯ ধারায় ‘সরল বিশ্বাসে কৃত কর্ম সংরক্ষণ’ শিরোনামে বলা হয়েছে, এই অধ্যাদেশের অধীনে সরল বিশ্বাসে কোনো কাজ করার ফলে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা কিংবা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা দায়ের বা গ্রহণ করা যাবে না।
অধ্যাদেশে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্রয়প্রক্রিয়ায় ই-জিপি থেকে অব্যাহতি এবং সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে (এলটিএম) পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত সেবা ক্রয়ের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জাম চুরি বা চোরাই সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশের ক্ষতিসাধন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। এসব অপরাধের বিচার প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হবে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। চুরি ও ক্ষতিসাধনের পাশাপাশি এসব কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা এবং প্ররোচনার জন্যও শাস্তির বিধান রয়েছে।
অধ্যাদেশের ২২ ধারায় বলা হয়েছে, এটি জারির আগে বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন কার্যক্রম গতিশীল করতে সরকার যেসব আদেশ, প্রজ্ঞাপন, নীতিমালা, নির্দেশিকা ও গাইডলাইন জারি করেছে, সেগুলো এবং এর আওতায় সম্পাদিত বা চলমান কার্যক্রম এই অধ্যাদেশের অধীনে সম্পাদিত হয়েছে বলে গণ্য হবে।
অধ্যাদেশে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় পলিসি কাউন্সিল গঠন, জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে স্থানীয় কারিগরি ও সমন্বয় কমিটি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে উপজেলা কারিগরি ও সমন্বয় কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নেট মিটারিং-সংক্রান্ত প্রণোদনামূলক কার্যক্রম ঘোষণা ও জারির সুযোগ রয়েছে।
অধ্যাদেশের ৩ ধারায় আইনের প্রাধান্য নির্ধারণ করে বলা হয়েছে, আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনে ভিন্ন কিছু থাকলেও এই অধ্যাদেশের বিধান প্রাধান্য পাবে। নিজস্ব তহবিল বা নিয়মিত আয় রয়েছে—এমন প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যৎ আর্থিক সম্ভাব্যতা বিবেচনায় মূলধনী ব্যয়ভিত্তিক (ক্যাপেক্স) মডেলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করতে পারবে।
বর্তমান সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি কৌশলপত্রে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট নতুন সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুতের প্যানেলসহ সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিশেষ বিধান আইন করা হয়েছিল, যার মেয়াদ কয়েক দফায় বাড়ানো হয়। ওই আইনেও বিশেষ আইনি সুরক্ষার বিধান ছিল। আইনটির অধীনে সম্পাদিত বিভিন্ন চুক্তি নিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনটি বাতিল করে।