-6ac3247130073.webp)
ইরান-সমর্থিত হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইয়েমেনের অঞ্চলগুলো পুনর্দখলে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল (পিএলসি) জানিয়েছে, হুথিদের পরাজিত না করা পর্যন্ত সরকারি বাহিনীর এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
রোববার (৪ অক্টোবর) টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি বলেন, দেশের ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কবল থেকে মুক্তি’ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি বাহিনী সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে। এর পরপরই ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র হুথিদের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানান।
সানা ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ
২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দেশটির জনসংখ্যার বড় একটি অংশ এসব এলাকায় বসবাস করে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তাদের পশ্চিমা মিত্রদের একাধিক সামরিক তৎপরতার পরও দীর্ঘ সময় ধরে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ থেকে এসব অঞ্চল মুক্ত করা সম্ভব হয়নি। বরং ইরানের সহায়তায় গোষ্ঠীটি নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার ও সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করেছে।
গত মাসে আকস্মিক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে হুথিরা গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দাব প্রণালি এবং লোহিত সাগরের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উপকূলীয় এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করে। এর ফলে আন্তর্জাতিক নৌযাত্রার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রবেশপথে গোষ্ঠীটির প্রভাব আরও বিস্তৃত হয়েছে।
লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বাব আল-মান্দাব প্রণালি ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার মধ্যে সমুদ্রপথে পণ্য ও জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ রুট। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর বৈশ্বিক বাণিজ্যে বাব আল-মান্দাবের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
হুথিদের সাম্প্রতিক সামরিক অগ্রগতি ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধকে মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত করেছে।
ইয়েমেন সরকার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়ার পর হুথিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং খুরাইস এলাকায় সৌদি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
গোষ্ঠীটির দাবি, এসব হামলার পর বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। গত ১২ ঘণ্টায় ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর প্রায় ৫০টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব হিসেবে তারা এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে হুথিরা। তবে সৌদি আরব তাৎক্ষণিকভাবে এসব অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আল-আলিমি বলেছেন, সংঘাত কমানোর সম্ভাব্য সব পথ শেষ হয়ে যাওয়ার পরই সামরিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি সৌদি আরবের সহযোগিতার জন্য দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে ইয়েমেনের আঞ্চলিক মিত্র ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের নতুন সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর আগে আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, হুথিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব ও তাদের ইয়েমেনি মিত্ররা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, সৌদি আরব আকাশপথে সামরিক হামলায় নেতৃত্ব দেবে এবং ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী স্থলভাগে অভিযান পরিচালনা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রও সৌদি আরবকে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে। এ ছাড়া কয়েকটি ইউরোপীয় ও আঞ্চলিক দেশ সৌদি আরবকে মূলত প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।