
গভীর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে এক ট্রলারের জালে উঠেছে বিপুল পরিমাণ লাল কোরাল, যার বাজারমূল্য ছাড়িয়েছে ৩১ লাখ টাকা। কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলে এমন ধরা পড়া নিয়ে জেলে ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোরে মাছভর্তি ট্রলারটি টেকনাফ পৌরসভার কাইয়ুখ খালী ঘাটে পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মাছ কেনার হিড়িক পড়ে যায়। ট্রলার মালিকদের তথ্যমতে, প্রায় ১ হাজার ১০০টি বড় আকারের লাল কোরাল ধরা পড়েছে, যার মোট ওজন আনুমানিক ১২০ মণ। মণপ্রতি ২৬ হাজার টাকা হিসেবে পুরো চালানের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
জানা গেছে, সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের গভীর অংশে মঙ্গলবার বিকেলে জাল তোলার সময় মাছের বড় একটি ঝাঁক ট্রলারে উঠে আসে। মোহাম্মদ মিজান ও হারুনের মালিকানাধীন ট্রলারটি ১৭ জন মাঝিমাল্লাকে নিয়ে গত শনিবার গভীর সমুদ্রে যাত্রা করে।
ট্রলারের মাঝি রহমত উল্লাহ বলেন, "সীমান্তে আরাকান আর্মির সংঘাতের আশঙ্কায় সপ্তাহখানেক সাগরে যাওয়া বন্ধ ছিল। অবশেষে সাগরে গিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে জাল তোলার সময় বিপুল পরিমাণ কোরাল ধরা পড়ায় তারা অবাক হয়ে যান।"
প্রতিটি মাছের ওজন পাঁচ থেকে ছয় কেজির মধ্যে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রলার মালিক মিজান জানান, জেলেদের প্রাপ্য হিসেবে ১০০টি মাছ আলাদা রাখা হয়েছে। অবশিষ্ট প্রায় এক হাজার মাছ বিক্রির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। কেজিপ্রতি আনুমানিক ৬৫০ টাকা দরে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঘাটের মৎস্য ব্যবসায়ী রশিদ আহমেদ বলেন, "আসন্ন রমজান উপলক্ষে বাজারে সামুদ্রিক মাছের বিশেষ চাহিদা রয়েছে, বিশেষ করে লাল কোরালের কদর অনেক বেশি। এই চালানের মাছের একটি বড় অংশ কক্সবাজারে এবং বাকিটা রাজধানী ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।"
সম্প্রতি সাগরে মাছের স্বল্পতার কারণে জেলেরা আর্থিকভাবে চাপে ছিলেন। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এই বড় চালানটি তাদের সাম্প্রতিক লোকসান কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হবে। জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত মৌসুমে সেন্ট মার্টিন সংলগ্ন গভীর সাগরে লাল কোরাল ঝাঁক আকারে বিচরণ করে।
টেকনাফ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা উমুল ফারা বেগম তাজকিরা জানিয়েছেন, লাল কোরাল অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ একটি মাছ। এটি মূলত ভেটকি প্রজাতিভুক্ত এবং একটি মাছ সর্বোচ্চ ৯ কেজি পর্যন্ত ওজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ মাছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন, ভিটামিন বি ১২, ভিটামিন ডি এবং ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা হৃদরোগ প্রতিরোধ এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। বিরল এ প্রজাতির এত বড় আহরণ বঙ্গোপসাগরের সমৃদ্ধ মৎস্য সম্পদেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।