
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ৪২ দিনে দেশে কোনো ক্রসফায়ার বা গুমের ঘটনা ঘটেনি বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, সরকার মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল-২০২৬’ উত্থাপনের পর বিরোধী দলের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর আপত্তির জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
আইনমন্ত্রী বলেন, “এই সরকারের বয়স প্রায় ৪২ দিন। সরকার চাইলে প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে পারত। কিন্তু এই ৪২ দিনে বাংলাদেশের একটি মানুষও ক্রসফায়ারের শিকার হয়নি, একটি মানুষও গুমের শিকার হয়নি। মানবাধিকারের রেকর্ডই বলে দিচ্ছে আমরা কোন পথে হাঁটছি।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার সবচেয়ে বড় পরিবার হলো জিয়া পরিবার ও বিএনপি পরিবার। আমাদের সামনে যারা বসে আছেন, তাদের অনেকেই গত ১৭ বছর মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। আমরা চাই না বাংলাদেশে আর কোনো মা-বোনকে জায়নামাজে বসে সন্তানের প্রতীক্ষায় চোখের জল ফেলতে হোক।”
মানবাধিকার কমিশন বিল প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি তড়িঘড়ি করে প্রণয়ন করা হয়েছিল, যেখানে বেশ কিছু আইনি অসংগতি রয়েছে। বিশেষ করে ১৬ নম্বর ধারায় ক্ষতিপূরণ ও জরিমানার বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই।
তিনি জানান, স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি স্বচ্ছ, যুগোপযোগী ও শক্তিশালী আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সময়ে দেশে মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রমে কোনো আইনি শূন্যতা তৈরি না হয়, সে জন্য সাময়িকভাবে ২০০৯ সালের আইন পুনর্বহাল করা হয়েছে।