.jpeg)
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত না করায় প্রশাসনের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার একদিন পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য মো. জাহিদ হাসানকে প্রক্টর অফিসে তলব করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও উপাচার্যকে নিয়ে মানহানিকর বিরূপ মন্তব্য করেছেন। এ ছাড়া তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এ কারণে তাকে আগামী ১৪ জুলাই সকাল ১০টায় প্রক্টর অফিসে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিভাগের চেয়ারম্যানকে অনুরোধ জানানো হয়।
এর আগে রোববার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে জাহিদ হাসান দাবি করেন, বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কয়েক দিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা অনলাইনে নেওয়ার বিষয়ে বিকেল থেকেই জকসুর পক্ষ থেকে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। প্রশাসন বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিলেও রাত পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, সন্ধ্যার পর থেকে জকসুর নেতারা উপাচার্য ও ট্রেজারারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে উপাচার্য জকসুর ভিপির ফোনও রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
জাহিদ তার পোস্টে লেখেন, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীদের জন্য পুরান ঢাকার ক্যাম্পাসে পৌঁছানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হলেও প্রশাসন পরিস্থিতি বিবেচনায় নেয়নি। একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষণা করলেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় তা করেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও লেখেন, ‘জকসুর কাজ প্রশাসনকে চাপ দেওয়া, আমরা দিয়েছি। কিন্তু প্রশাসন যদি সেই চাপ অনুভবই না করে, তাহলে এর দায় জকসুর নয়।’
একই পোস্টে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সমালোচনা করে বর্তমান প্রশাসনের প্রতি নিজেদের আস্থার কথাও উল্লেখ করেন এবং প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে হতাশা প্রকাশ করেন।
প্রক্টর অফিসের নোটিশ পাওয়ার পর সোমবার রাতে জাহিদ হাসান আরেকটি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। গতকালের ফেসবুক পোস্টের বিপরীতে প্রক্টর অফিস থেকে আমাকে আগামীকাল ডাকা হয়েছে। জবি প্রশাসন এবং মাননীয় উপাচার্য মহোদয়ের বিরুদ্ধে নাকি মানহানিকর পোস্ট করেছি।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমার সোনার জগা বাবু! ধন্যবাদ! আর কত খেল দেখাবে প্রশাসন, স্রষ্টা জানেন! কমেন্টে গতকালের পোস্টের লিংক দিলাম। আপনারা একটু জানাবেন কোন বিষয়টা মানহানিকর ছিল?’
এ বিষয়ে জবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, ‘কোন বক্তব্যকে মানহানিকর মনে করা হয়েছে, সেটি আলাদাভাবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। জাহিদের ফেসবুক পোস্টেই বিষয়টি রয়েছে। পোস্টটি দেখলেই বোঝা যাবে।’
বিষয়টি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রক্টর বলেন, ‘অবশ্যই না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সবারই আছে। সেও মতপ্রকাশ করতে পারে।’
সম্ভাব্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা বলা যাচ্ছে না। আগে তাকে ডেকে কথা বলতে হবে। আমি নিজে আজ প্রায় ১০ বার তার মোবাইল ফোনে কল করেছি, কিন্তু সে ফোন রিসিভ করেনি। তাই তার বিভাগীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তাকে আগামীকাল প্রক্টর অফিসে উপস্থিত হওয়ার জন্য জানানো হয়েছে।’