
ফেনীর সোনাগাজীতে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় তার বড় ভাইকে লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে। বুধবার (২১ মে) সন্ধ্যায় সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের পশ্চিম সুজাপুর এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহত ইমাম হোসেন (২০) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার পরিবার বৃহস্পতিবার থানায় মামলা দায়ের করেছে।
মামলায় পশ্চিম সুজাপুর এলাকার বাসিন্দা ও কিশোর গ্যাংয়ের কথিত দলনেতা মো. তাহসান-কে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকার এক স্কুলছাত্রী দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত তাহসান ও তার সহযোগীদের দ্বারা উত্ত্যক্তের শিকার হচ্ছিল। বিষয়টি পরিবার জানার পর প্রতিবাদ জানানো হয় এবং ছাত্রীটির ভাই ইমাম হোসেনও তাকে সতর্ক করেন।
এর জেরে মঙ্গলবার রাতে অভিযুক্তরা ওই পরিবারের আরেক সদস্যকে মারধর করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পরে বুধবার বিকেলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলার মধ্যেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়।
সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে করে ৮–১০ জনের একটি দল এসে ইমাম হোসেনের ওপর হামলা চালায়। তারা লাঠিসোটা দিয়ে তাকে মারধর করার পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে পেটের বাম পাশে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় ইমামকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরের একাধিক স্থানে গভীর জখম রয়েছে এবং সুস্থ হতে সময় লাগবে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষক জানান, অভিযুক্ত তরুণ ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করছিল।
সোনাগাজী মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।