
রাষ্ট্রের সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত খোদ বাংলাদেশ সচিবালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের স্পর্শকাতর ‘রেড টেলিফোন’ লাইনের তামার তার চুরির চাঞ্চল্যকর মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামী মাহাবুব হাসান (৩৪)-কে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আজ শুক্রবার (১২ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম শুনানি শেষে আসামীকে জেলহাজতে পাঠানোর এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামী মাহাবুবকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করেন। এ সময় মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও তথ্য উদঘাটনের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে অবরুদ্ধ রাখার জন্য বিজ্ঞ আদালতে আবেদন করা হয়। আসামিপক্ষের বক্তব্য ও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন পর্যালোচনা করে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এই চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে এর আগেও বেশ কয়েকজনকে আইনের আওতায় এনেছে পুলিশ। গত ৫ জুন এই মামলার অন্যতম দুই আসামী রঞ্জন চন্দ্র (২৬) ও রিজাকুল ইসলাম (৩২)-এর পাঁচ দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত। সেই রিমান্ডের মেয়াদ শেষে বর্তমানে তারাও আদালতের নির্দেশে কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
মামলার নথির বিবরণ অনুযায়ী, গত ২২ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত যেকোনো একটি সুবিধাজনক সময়ে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত সচিবালয়ের পুরাতন ১, ২ ও ৩ নম্বর ভবনের ছাদ থেকে এই চুরির ঘটনা ঘটে। চোরচক্র সেখান থেকে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল)-এর ১০০/০.৪ জোড়ার প্রায় ১১০ মিটার কপার (তামা) ক্যাবল কেটে নিয়ে যায়, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার টাকা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে সংযুক্ত এই বিশেষ লাইনের তার গায়েব হওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে গত ৪ জুন বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ বাদী হয়ে রাজধানীর শাহবাগ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করে একটি চুরির মামলা দায়ের করে। সেই মামলার তদন্তে নেমেই পুলিশ একে একে এই আসামীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।