
মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পরই নিজেকে বদলাতে স্বেচ্ছায় রিহ্যাবে ভর্তি হয়েছেন মার্কিন পপ তারকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর নতুন করে আলোচনায় এলেও, তার এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
শিল্পীর ঘনিষ্ঠ এক প্রতিনিধি একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঘটনাটি কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়, তবে ব্রিটনি এখন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং নিজের জীবনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে সঠিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন।’ কঠিন এই সময়ে তার সন্তানরা তার পাশেই রয়েছে এবং পরিবারের সদস্যরা তার সার্বিক সুস্থতার জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৪ মার্চ মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর দায়ে ৪৪ বছর বয়সী এই গায়িকাকে গ্রেপ্তার করা হয়। একদিন পরই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। তবে এই ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি, আগামী ৪ মে ভেনচুরা কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে তাকে হাজিরা দিতে হবে।
ব্রিটনি স্পিয়ার্সের জীবনে বিতর্ক যেন পুরনো ছায়া। ২০০৭ সালে হঠাৎ মাথা ন্যাড়া করা থেকে শুরু করে একের পর এক আচরণগত ঘটনায় বিশ্বজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়। পরে অ্যান্টিগুয়ায় একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা নেন তিনি। ২০০৮ সালে সাবেক স্বামী কেভিন ফেডারলাইনের সঙ্গে সন্তানদের অভিভাবকত্ব নিয়ে আইনি লড়াই চলাকালে তার মানসিক অবস্থা আরও ভেঙে পড়ে, তখন পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়।
সেই সময় থেকেই আদালতের নির্দেশে ‘কনজারভেটরশিপ’-এর অধীনে চলে যান ব্রিটনি, যেখানে তার ব্যক্তিগত জীবন থেকে আর্থিক সিদ্ধান্ত পর্যন্ত সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন তার বাবা জেমি স্পিয়ার্স। টানা ১৩ বছর পর ২০২১ সালে ভক্তদের ‘ফ্রি ব্রিটনি’ আন্দোলন ও দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে সেই অভিভাবকত্ব থেকে মুক্তি পান তিনি।
ঝড়ঝাপটা পেরিয়ে আবারও নিজের জীবনকে গুছিয়ে নেওয়ার পথে হাঁটছেন ব্রিটনি। জেল থেকে বেরিয়েই রিহ্যাবে যাওয়ার এই সিদ্ধান্ত অনেকের চোখে নতুন শুরুর এক শক্ত বার্তা হয়ে উঠেছে।