
কয়েক দিন আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসিমুখে ফুচকা খেতে দেখা গিয়েছিল জনপ্রিয় নির্মাতা ও উপস্থাপক কারিনা কায়সারকে। আর এখন তিনি গুরুতর লিভার জটিলতায় চিকিৎসাধীন। তার অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসতেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে রাজধানীর অনিরাপদ স্ট্রিট ফুড, দূষিত পানি ও জনস্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি।
সম্প্রতি এক চিকিৎসকের বিশ্লেষণধর্মী ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তিনি বলেন, হেপাটাইটিস এ ও ই সাধারণত দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করে। বিশেষ করে কাঁচা পানি ব্যবহার করে তৈরি টক, শরবত বা খোলা খাবার এই ভাইরাস ছড়ানোর বড় মাধ্যম হতে পারে। কারিনা কায়সারের অসুস্থতার কারণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক চিকিৎসা প্রতিবেদন প্রকাশ না হলেও বিষয়টি ঘিরে জনমনে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ফুচকা ও ভেলপুরি বিক্রেতা টক তৈরিতে সরাসরি লাইনের পানি ব্যবহার করেন। ফুটানো পানি ব্যবহার করা হয় কি না জানতে চাইলে অনেক বিক্রেতাই জানান, এত পরিমাণ পানি ফুটানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। কেউ কেউ বলেন, ফুটানো পানি ব্যবহার করলে টকের স্বাদ ও স্থায়িত্ব নষ্ট হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ঢাকা শহরের বহু এলাকায় পানির পাইপ ও ড্রেনেজ লাইন ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাশাপাশি অবস্থান করছে। পাইপে সামান্য ফাটল বা লিক থাকলেও সেখানে মলমূত্রবাহী জীবাণু মিশে যেতে পারে। ফলে সরাসরি লাইনের পানি পান করা বা খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হেপাটাইটিস এ ও ই ভাইরাস মূলত দূষিত পানি ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের মাধ্যমে ছড়ায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি সাময়িক সংক্রমণ হলেও কারও কারও শরীরে ভয়াবহ জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে লিভার আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি দ্রুত সংকটজনক হয়ে উঠতে পারে।
রাজধানীর স্কুল-কলেজ ঘিরে গড়ে ওঠা অনিয়ন্ত্রিত স্ট্রিট ফুড সংস্কৃতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী খোলা পরিবেশে তৈরি ফুচকা, চটপটি, শরবত ও ভেলপুরি খাচ্ছে। কিন্তু এসব খাবারে ব্যবহৃত পানি, মসলা বা প্রস্তুত প্রক্রিয়া কতটা নিরাপদ, তার কার্যকর তদারকি প্রায় নেই বললেই চলে।
খাদ্য নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু বিক্রেতাদের দোষ দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। নিরাপদ পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্যবিধি প্রশিক্ষণ, নিয়মিত মনিটরিং এবং ভ্রাম্যমাণ খাদ্য ব্যবসাকে নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ জরুরি। একই সঙ্গে জনসচেতনতাও বাড়াতে হবে।
চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিচ্ছেন, রাস্তার খোলা খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে কাঁচা পানি, বরফ, টক বা খোলা শরবত এড়িয়ে চলা উচিত। শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি বলে মনে করছেন তারা।
কারিনা কায়সারের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছে, স্বাদের জন্য আমরা কি অজান্তেই বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিকে স্বাভাবিক করে ফেলছি?