
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং ক্রমাগত লোকসানের ধাক্কা সইতে না পেরে অবশেষে ডানা গুটিয়ে নিল আমেরিকার জনপ্রিয় সাশ্রয়ী বিমান সংস্থা ‘স্পিরিট এয়ারলাইনস’। স্বল্পমূল্যে আকাশপথের ভ্রমণের জন্য পরিচিত এই এয়ারলাইনসের বিদায় মার্কিন এভিয়েশন খাতের জন্য একটি বড় দুঃসংবাদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
শনিবার (৩ মে) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তাদের যাবতীয় ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করে।
যুদ্ধের প্রভাবে বিপর্যস্ত জ্বালানি খাত
স্পিরিট এয়ারলাইনস জানিয়েছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দুবার দেউলিয়া সুরক্ষার আবেদন করেও শেষ পর্যন্ত টিকে থাকা সম্ভব হয়নি। মূলত হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে, যা জ্বালানি খরচকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে গেছে। জেপি মরগানের বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে বছর শেষে সংস্থাটির ব্যয় আরও ৩৬০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেত।
সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভ ডেভিস পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, "ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা আমরা যোগাড় করতে পারিনি।"
ব্যর্থ হলো ট্রাম্পের ‘বেইল-আউট’ পরিকল্পনা
ফ্লোরিডাভিত্তিক এই বিমান সংস্থাকে বাঁচাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৫০০ মিলিয়ন ডলারের একটি ‘বেইল-আউট’ প্যাকেজের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এমনকি সরকারের পক্ষ থেকে সংস্থাটির ৯০ শতাংশ মালিকানা নেওয়ার ইঙ্গিতও ছিল। তবে বন্ডহোল্ডারদের সঙ্গে ঋণ পুনর্গঠন চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় সেই উদ্ধার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে সংস্থাটির সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও একীভূতকরণের বাধা
এই পরিস্থিতির জন্য বর্তমান প্রশাসনের নীতিকে দায়ী করেছেন মার্কিন পরিবহন মন্ত্রী শন ডাফি। তিনি মন্তব্য করেন যে, ২০২৩ সালে জেটব্লু’র সঙ্গে স্পিরিট এয়ারলাইনসের একীভূত হওয়ার প্রস্তাবটি যদি বাইডেন প্রশাসন আইনি জটিলতায় আটকে না দিত, তবে আজ এই দেউলিয়া হওয়ার দশা হতো না।
বেকারত্বের শঙ্কা ও বিশ্ববাজারে প্রভাব
স্পিরিট এয়ারলাইনস বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে প্রায় ১৪ হাজার কর্মী চাকরি হারানোর মুখে পড়েছেন। শুধু আমেরিকায় নয়, এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক এভিয়েশন খাতেও। যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বিমান ভাড়া ইতিমধ্যে প্রায় ৩৭ শতাংশ বেড়েছে। আয়ারল্যান্ডের রায়ানএয়ার এবং এশিয়ার ভিয়েতনাম এয়ারলাইনসের মতো বড় সংস্থাগুলোও এখন তাদের নিয়মিত রুট কমিয়ে আনার কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
সূত্র: টাইম।