
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াজ-কানেল। তিনি বলেছেন, কিউবার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এলে দেশের মানুষ শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের “কিউবা আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে” মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কিউবার প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন ইচ্ছাকৃতভাবে কিউবার বিরুদ্ধে প্রচারণা ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য শুধু কিউবার জনগণকেই অপমান করে না, বরং আন্তর্জাতিক আইনেরও পরিপন্থী।
দিয়াজ-কানেল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আদৌ হামলার পথে যাবে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিউবা প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধ চাই না, কিন্তু যুদ্ধকে ভয়ও পাই না। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কিউবার জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকবে।”
এ সময় কিউবার স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা আন্তোনিও মাসেওর একটি ঐতিহাসিক উক্তি স্মরণ করেন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, কিউবায় আগ্রাসন চালাতে এলে আক্রমণকারীরা শুধু রক্তে ভেজা মাটির স্মৃতি নিয়েই ফিরে যেতে পারবে। তার ভাষায়, এটি শুধু একটি স্লোগান নয়, বরং কিউবার জনগণের গভীর বিশ্বাসের প্রতিফলন।
প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের সময় ৩২ জন কিউবান নিহত হয়েছিলেন। প্রয়োজন হলে দেশের জন্য লাখো মানুষ জীবন দিতেও প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রসঙ্গ টেনে দিয়াজ-কানেল বলেন, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে কিউবায় বিদ্যুৎ সংকট, ওষুধের ঘাটতি এবং অর্থনৈতিক দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে জ্বালানি খাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে অভিযোগ তার।
একই সঙ্গে কিউবায় চীন বা রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন কিউবার প্রেসিডেন্ট। তিনি দাবি করেন, দেশটিতে কোনো চীনা সামরিক স্থাপনা নেই।
এ ছাড়া রাজনৈতিক বন্দি ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার অভিযোগও নাকচ করে দেন দিয়াজ-কানেল।