
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই সৌদি আরবের বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ন্যাটোর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার সৌদি আরবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে এই পদক্ষেপ সহায়ক হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত লক্ষ্য বাস্তবায়নেও এটি ভূমিকা রাখবে বলে জানানো হয়।
পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬ কোটি ডলারের এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরব প্রায় ২০ হাজার ‘অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেমস’ এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ারহেড কিনবে। এসব অস্ত্র নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। অস্ত্র সরবরাহের প্রধান ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে নিউ জার্সির ন্যাশুয়ার ‘বিএই সিস্টেমস’।
এই অনুমোদনের খবর এমন সময় এলো, যখন গত সোমবার ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আবহার একটি বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ওই ঘটনার পর সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দাফন অনুষ্ঠান শেষে দেশে ফেরার সময় হুতিদের একটি প্রতিনিধিদলকে লক্ষ্য করে সানা বিমানবন্দরে রিয়াদ-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বাহিনী হামলা চালায়। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবে হামলা চালায় এবং সানার ঘটনার জন্য সরাসরি সৌদি আরবকে দায়ী করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে নতুন করে মার্কিন হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ শুরুর প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এই অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।