
ভারতজুড়ে শিক্ষার্থী আন্দোলনের তীব্রতার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন কৌশল নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তরুণদের লক্ষ্য করে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা তার একটি রিল ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ৩০ কোটির বেশি ভিউ পেয়ে একক ভিডিওর সর্বোচ্চ ভিউয়ের নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ও শুক্রবার (২৪ জুলাই) গভীর রাতে ধারণ করা দুটি রিল ভিডিও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন ৭৫ বছর বয়সী এই ভারতীয় নেতা। এর মধ্যে প্রথম ভিডিওটি প্রকাশের এক দিনের মধ্যেই ৩০০ মিলিয়নের বেশি ভিউ অর্জন করে আগের সব রেকর্ড ভেঙে দেয়।
এর আগে ইনস্টাগ্রাম রিলে সর্বোচ্চ ভিউয়ের রেকর্ড ছিল জনপ্রিয় ইউটিউবার আইশোস্পিডের দখলে। চলতি মাসের শুরুতে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর কে-পপ ব্যান্ড বিটিএসের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ধারণ করা একটি ভিডিও দিয়ে তিনি সেই রেকর্ড গড়েছিলেন।
মোদির রিল প্রকাশের সময় দেশজুড়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছিল। তরুণদের সবচেয়ে জনপ্রিয় শর্ট ভিডিও ফরম্যাট ব্যবহার করে সরাসরি জেন-জি প্রজন্মের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন তিনি।
ভারতে চলমান আন্দোলনের সূচনা হয় নিট মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অনিয়মের তথ্য সামনে আসার পর ১২ মে তা বাতিল করা হয়। পরে ১৬ মে ছাত্রনেতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানিতে বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করার পর সেই বক্তব্যের ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দলটির নামকরণ করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা পায় সিজেপি এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করে।
শেষ পর্যন্ত সিজেপি ও বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের মুখে গত শনিবার (২৫ জুলাই) কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠানোর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজেই নিশ্চিত করেন।
একশ কোটিরও বেশি নয়, ১০ কোটির বেশি ইনস্টাগ্রাম অনুসারী থাকা সত্ত্বেও মোদির ব্যক্তিগত রিল প্রকাশের ঘটনা তুলনামূলক বিরল। তিনি সাধারণত আনুষ্ঠানিক ভাষণ ও সরকারি কর্মসূচির মাধ্যমেই জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মোদির জীবনীকার নিলঞ্জন মুখোপাধ্যায় বলেন, শিক্ষার্থী আন্দোলনের চাপে প্রধানমন্ত্রীকে বেশ চাপে পড়তে দেখা গেছে। তবে মোদির দল দাবি করেছে, তরুণদের সঙ্গে আরও সহজভাবে সংযোগ গড়ে তুলতেই এই ভিডিওগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।