
ইরানের সঙ্গে ১৫ দিনের সংঘাতে ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত হতাহতের তথ্যকে ‘ভুল’ ও ‘গোপন করা হয়েছে’ বলেও অভিযোগ তুলেছে বাহিনীটি।
রোববার (২৬ জুলাই) প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি এ দাবি করেন।
তিনি বলেন, ‘অপারেশন ভিক্টরি–২’-এর আওতায় ইরানের পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, পেন্টাগন তার প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করছে না।
মোহেবির দাবি, ওই সংঘাতে ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহতের প্রকৃত সংখ্যাও সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। তার ভাষ্য, ওয়াশিংটন ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকৃত হতাহতের তথ্য আড়াল করছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র আরও বলেন, ইরান যেসব মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, সেখানে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে প্রবেশের অনুমতি দিলে বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্বের সামনে উঠে আসবে।
আইআরজিসির দাবি, ‘অপারেশন ভিক্টরি–২’-এ আটটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে একটি ঘাঁটির ২০টি স্থাপনা ও বিমান হ্যাঙ্গারে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এসব হামলায় ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার, ১৭টি গোয়েন্দা ও অপারেশনাল ড্রোন, একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ পরিবহন বিমান এবং আটটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে বাহিনীটি।
এর আগে পেন্টাগন জানায়, সংঘাতে ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। পরে আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যম সংশোধিত তথ্যে নিহতের সংখ্যা ১৪ জন বলে উল্লেখ করে। যুক্তরাষ্ট্র কয়েকজন নিহত সেনার পরিচয়ও প্রকাশ করেছে।
তবে আইআরজিসির সর্বশেষ দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা জানায়, ইরানের দাবি করা হতাহতের সংখ্যা কিংবা সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংসের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।