
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান যুদ্ধে কোনো সেনা পাঠাবে না দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং এ কথা জানিয়েছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
লি জে মিয়ং বলেন, “সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে, এমন কোনো সেনা পাঠানো হবে না। যুদ্ধে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততাও থাকবে না।”
তবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী দক্ষিণ কোরীয় নাগরিক এবং অপরিশোধিত তেল পরিবহনের রুট নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় ‘ন্যূনতম মাত্রার কার্যক্রম’ চালানো হবে বলে জানান তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার চেওংহে সামরিক ইউনিট ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম বাড়িয়েছে। এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করার উপায় নিয়েও সরকার ভাবছে বলে জানান লি। তবে যুদ্ধে জড়ানোর মতো কোনো সেনা মোতায়েন করা হবে না বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সিউলের ওপর চাপ রয়েছে। সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে সমুদ্রপথে টহল দেওয়া বিমান, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ দল এবং নৌমাইন শনাক্ত ও অপসারণে সক্ষম মানববিহীন ব্যবস্থা ব্যবহারের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।
হরমুজ প্রণালি দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি জ্বালানি করিডর। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর তৎপরতা বৃদ্ধির কারণে এই নৌপথে জাহাজ চলাচল ও অপরিশোধিত তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
লি বলেন, সংঘাত শুরুর পর ঝুঁকিপূর্ণ জলসীমা এড়িয়ে চলায় অনেক জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেয়। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ে।