.jpg)
ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শনিবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো এ খবর জানিয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকট—কারও সামনেই ক্ষমতায় যাওয়ার পথ স্পষ্ট হয়নি।
সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকট আনুষ্ঠানিকভাবে রোববার সন্ধ্যায় সরকার গঠনের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এরপর জোট গঠনের জন্য তিনি ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এই সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে।
২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। তবে ১২০ আসনের নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের চেয়ে তা কম। অবশ্য সংসদে এখনো সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক জোট নেতানিয়াহুর পক্ষই।
অন্যদিকে, আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। আর আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে পেয়েছে রেকর্ড ১৯টি আসন। ফলে নতুন সরকার গঠনের আলোচনায় এসব দলের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চলতি সপ্তাহে হারজগের সঙ্গে পৃথক আলোচনায় আরব নেতৃত্বাধীন দুই দলই আইজেনকটের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।
বুধবার মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রা’আম পার্টি তাদের আটজন আইনপ্রণেতার সমর্থন আইজেনকটকে দেওয়ার কথা জানায়। পরদিন বৃহস্পতিবার একই অবস্থান জানায় জয়েন্ট লিস্ট।
এর ফলে আইজেনকটের পক্ষে আইনপ্রণেতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭ জনে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে রয়েছেন ৪৬ জন।
আগের পাঁচটি নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুকে সমর্থন জানালেও এবার ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম পার্টি তাঁর পক্ষে সুপারিশ করেনি। তবে দলটি আইজেনকটকেও সমর্থন দেয়নি।
জয়েন্ট লিস্ট জানিয়েছে, নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকারের প্রত্যাবর্তন ঠেকানোর জন্য জনগণের যে দাবি রয়েছে, তার প্রতিফলন হিসেবেই দলটি সর্বসম্মতভাবে আইজেনকটকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠনের সম্ভাবনা বাড়াতে আইজেনকটের সঙ্গে অন্য পক্ষগুলোর সমর্থনের ব্যবধান আরও বাড়ানোও এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য।
দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে বৃহস্পতিবার হারজগ বলেন, সরকার গঠনের দায়িত্ব আইজেনকটকে দেওয়াই যৌক্তিক হবে।
আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর আক্রমণ
আইজেনকটের জোট এখন পর্যন্ত আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট গড়তে রাজি হয়নি। অথচ এসব দলের সমর্থন পেলে বিরোধী জোট সহজেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে।
তবে বিরোধী শিবির অতি-ধর্মীয় ইহুদি দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একসময় এমন সমঝোতার কথা প্রায় অসম্ভব মনে করা হলেও, এই দলগুলোর সমর্থন পেলে আইজেনকটের পক্ষে প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন দল রা’আমও জোটে থাকতে পারে। আর জয়েন্ট লিস্ট সরাসরি সরকারে যোগ না দিয়ে বাইরে থেকে সমর্থন দিতে পারে।
শনিবার আগে থেকে ধারণ করা এক ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, ইসলামপন্থীদের ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকার ইসরায়েলকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে দেবে। এ প্রসঙ্গে তিনি ইউরোপের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেন এবং দাবি করেন, সেখানেও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে।
নির্বাচনের আগে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণও জোরদার করেছেন নেতানিয়াহু। তাঁর অভিযোগ, এসব দল বিদেশি অর্থায়ন পেয়েছে। এবারের নির্বাচনে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকেরা রেকর্ডসংখ্যায় ভোট দেওয়ার পর তিনি এ অভিযোগ তোলেন।
নেতানিয়াহু আবারও শুধু জায়নবাদী দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে হারজগও এ ধরনের সরকার গঠনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
এর জবাবে আইজেনকটের দল ইয়াশার লিকুদ ও তাদের মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন উগ্রপন্থী হিসেবে পরিচিত দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং আইজেনকটের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনে যোগ দেয়।
শুক্রবার আইজেনকট একটি জরুরি সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে তিনি সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি।
তিনি জানান, পরিবর্তনপন্থী জোটের চারটি ইহুদি বিরোধী দলকে নিয়ে দ্রুত সরকার গঠনের উদ্যোগ নেবেন। দলগুলো হলো—ইয়াশার, নাফতালি বেনেটের টুগেদার, আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু এবং ইয়াইর গোলানের ডেমোক্র্যাটস।
আইজেনকট আরও বলেন, তাঁর নির্ধারিত শর্ত মেনে নিলে যেকোনো দল সরকার গঠনের শুরুতেই জোটে যোগ দিতে পারবে। আবার সরকার গঠনের পরও কোনো দল চাইলে এই জোটে যুক্ত হতে পারবে।
তবে ইসরায়েলের পাশাপাশি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন আইজেনকট।
২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের সেনাপ্রধানের দায়িত্বে থাকার সময় তিনি সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার পক্ষে প্রকাশ্যে মত দিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, এ অঞ্চলে ইরানের প্রভাব মোকাবিলায় দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করা উচিত।
এ ছাড়া তেহরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে সৌদি আরবের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করতেও ইসরায়েল আগ্রহী বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
সূত্র: মিডিল ইস্ট আই