
শুধু আইন প্রণয়ন করলেই দেশে নির্যাতনের সংস্কৃতি বন্ধ করা সম্ভব নয়; এর জন্য সমাজ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মানসিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘নির্যাতন প্রতিরোধ এবং ইউএনসিএটি ও ওপিসিএটি বাস্তবায়ন বিষয়ক জাতীয় পরামর্শ সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, নির্যাতনের সংস্কৃতি নির্মূলে শুধু আইন করাই যথেষ্ট নয়, এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে মানুষ বুঝতে পারে নির্যাতন অমানবিক, অন্যায় ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, সমাজে বিদ্যমান এই সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধি থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেই ভালো আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে।
সংবিধানের সুরক্ষার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫(৫)-এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কাউকে নির্যাতন বা নিষ্ঠুর, অমানবিক কিংবা অবমাননাকর আচরণের শিকার করা যাবে না। এটি রাষ্ট্র ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক নির্দেশনা।
মন্ত্রী দাবি করেন, আগস্ট-পরবর্তী ক্ষমতার পরিবর্তনের পর থেকে হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তিনি এটিকে দেশের আইনি সংস্কৃতি ও জাতীয় বিবেকের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সুরক্ষা আইনের অপব্যবহার যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। দায়মুক্তির সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, সরকার মানবাধিকার লঙ্ঘন, হেফাজতে মৃত্যু, জোরপূর্বক গুম কিংবা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চায় না। এ ধরনের ঘটনার ভয়াবহতা রাষ্ট্র ভালোভাবেই জানে এবং এসব বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।