
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, পুলিশ বাহিনীর সদস্য থেকে প্রশাসনের সব স্তরের কর্মকর্তাদের আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি ও দায়িত্ববোধে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। তিনি বলেন, পুলিশ জনগণের সেবক এবং জনগণের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) খুলনা বিভাগীয় বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে এক বিশেষ কল্যাণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি থানাগুলোকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজগম্য, জনবান্ধব ও আস্থার জায়গা হিসেবে গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, আইনি ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি, সাইবার ট্র্যাকিংসহ সব ধরনের আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং আইনের যথাযথ অনুসরণ নিশ্চিত করতে হবে।
মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সমাজের সচেতন মানুষদের সম্পৃক্ত করে সামাজিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়।
মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, কোনো দুর্ঘটনা বা অপরাধ ঘটলে দ্রুত তদন্ত, সঠিক রিপোর্টিং এবং তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমেই সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব।
সভায় বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা নিজেদের সমস্যা ও চাহিদার কথা তুলে ধরেন। আইজিপি তাদের বক্তব্য শোনেন এবং সমাধানে আশ্বাস দেন।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান-এর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, কমান্ড্যান্ট মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপাররা।
এর আগে আইজিপিকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে তিনি সেখানে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং লবণচরা থানার নতুন ভবনের নির্মাণকাজও পরিদর্শন করেন।