
ওয়াকফ সম্পত্তির আয়-ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ জানিয়েছেন, এখন থেকে ওয়াকফ সম্পত্তি আর অনিয়ম বা লুটপাটের সুযোগে ব্যবহৃত হতে পারবে না।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ওয়াকিফরা যেসব উদ্দেশ্যে ধর্মীয়, শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পত্তি দান করেছেন, সেগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ওয়াকফ সম্পত্তির আয়-ব্যয়ে কোনো ধরনের দুর্নীতি, অপব্যবহার বা স্বেচ্ছাচারিতা বরদাশত করা হবে না।
মন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ১৪ হাজার একরাধিক ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে। এর মধ্যে ওয়াকফে আওলাদ ও ওয়াকফে লিল্লাহ উভয় ধরনের বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে সঠিকভাবে ব্যবহার হয়নি।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এসব সম্পত্তির বড় অংশ বাজারমূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক কম ভাড়ায় ব্যবহৃত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি রাজধানীর একটি ওয়াকফ মার্কেটের দোকান ভাড়ার বিষয় তুলে ধরে জানান, বছরের পর বছর ধরে কিছু দোকান নামমাত্র ভাড়ায় পরিচালিত হয়ে আসছিল।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে একটি দোকান নতুন করে ভাড়া নির্ধারণের পর কয়েক গুণ বেশি আয় পাওয়া গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এতে বোঝা যায়, সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় এই সম্পদ থেকে প্রকৃত রাজস্ব হারিয়েছে দেশ।
ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ওয়াকফ সম্পত্তির ভাড়া পুনর্নির্ধারণ ও বাজারদরের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে এবং আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।