
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে সরকারি সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী এবং বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. জুবাইদা রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন। সেখানে তিনি মেলানিয়া ট্রাম্পসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট লেডির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
মঙ্গলবার ও বুধবার (২৪ ও ২৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে ৪৫টিরও বেশি দেশের ফার্স্ট লেডি এবং রাষ্ট্রনেতাদের স্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। এটি শিশুদের কল্যাণ এবং সম্ভাবনা বৃদ্ধির বিষয়কে কেন্দ্র করে উচ্চপর্যায়ের সংলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডা. জুবাইদা রহমান সম্মেলনে চিকিৎসক হিসেবে প্রতিটি শিশুর জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনরায় ব্যক্ত করেন।
তার সফরসঙ্গী হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, বিশিষ্ট অর্থোপেডিক সার্জন ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ এবং ব্যারিস্টার মেহনাজ মান্নান।
প্রধানমন্ত্রী অতিরিক্ত প্রেস সেক্রেটারি আতিকুল রহমান রুমন জানিয়েছেন, বুধবার (২৫ মার্চ) স্থানীয় সময় সকালে হোয়াইট হাউজে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প আগত অতিথিদের স্বাগত জানান। এরপর মেলানিয়া ট্রাম্পের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এই সময় ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সবাইকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
রুমন আরও জানিয়েছেন, ডা. জুবাইদা মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও কুশলাদি বিনিময় করেছেন এবং শিশুদের কল্যাণে একযোগে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তিনি মেলানিয়া ট্রাম্পকে সম্মেলন আয়োজনের জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানান এবং বিভিন্ন দেশের ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের স্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত ও কুশলাদি বিনিময় করেন। পরে তিনি সমাপনী অধিবেশন, গ্রুপ ফটো সেশন এবং রিসিপশনে অংশ নেন।
সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের শিশুদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য গৃহীত বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ তুলে ধরেন। বিশ্বনেতাদের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা নিয়ে গভীর আগ্রহ দেখান এবং শিশু কল্যাণে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এছাড়া হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ডা. জুবাইদা রহমানের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা থেকে জ্ঞানার্জন এবং বিশ্বের সব শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য অন্যান্য ফার্স্ট লেডি ও স্পাউসদের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।”
সম্মেলনটি মেলানিয়া ট্রাম্পের বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয়। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ১১টি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শনী, যেখানে শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়। ডা. জুবাইদা রহমান এবং তার প্রতিনিধিদল প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন।