
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশের মধ্যে আরও নয়টি বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিলগুলো কণ্ঠভোটে পাস করা হয়। বিলগুলোর ওপর কোনো দফাওয়ারি সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই দ্রুত পাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
সংসদের বিশেষ কমিটি এসব বিল হুবহু পাসের সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করলে তা সরাসরি কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (সংশোধন) বিল। বিলটি উত্থাপনকালে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় ‘গুম’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের গুমের বিচারে অঙ্গীকার এই আইনের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে। এ নিয়ে বাইরে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান আইনমন্ত্রীর বক্তব্যকে অনাহূত বলে উল্লেখ করেন। জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, গুমের বিচার নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করতেই তিনি বক্তব্য দিয়েছেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ বিষয়ে বলেন, সংসদের আলোচনায় বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখা উচিত এবং আইনবিধি অনুযায়ী গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যক্রম চলবে।
এদিন ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল’ পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এছাড়া কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (সংশোধন) বিল, সিভিল কোর্টস (সংশোধন) বিল, রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) বিলসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করা হয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিলও এদিন পাস হয়, যেগুলো মূলত নাম পরিবর্তনসংক্রান্ত সংশোধনী। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ তিনটি বিল উত্থাপন করেন। এগুলোর মধ্যে ছিল ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল এবং শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল।
পরে ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল’ও কণ্ঠভোটে পাস করা হয়।
সংসদের এ অধিবেশনে দ্রুততার সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হওয়ায় আইন প্রণয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।