
টেস্ট ক্রিকেটে হারানো আধিপত্য ফিরে পেতে নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এনেছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। সাবেক অধিনায়ক বেন স্টোকসের অবসরের পর আবারও টেস্ট দলের নেতৃত্বে ফিরেছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার জো রুট। একই সঙ্গে প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক স্টিফেন ফ্লেমিংকে। তিনি ব্রেন্ডন ম্যাককালামের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।
২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৬৪টি টেস্টে ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেওয়া ৩৫ বছর বয়সী রুটের অধিনায়কত্বে দলটি ২৭টি ম্যাচে জয় পেয়েছিল। আগামী ১৯ আগস্ট পাকিস্তানের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া তিন ম্যাচের হোম টেস্ট সিরিজ থেকেই নতুন দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।
দায়িত্ব ফিরে পেয়ে এক বিবৃতিতে রুট বলেন, “ইংল্যান্ড টেস্ট দলের অধিনায়ক হিসেবে আবার দায়িত্ব পাওয়াটা আমার জন্য বড় সম্মানের। টেস্ট দলের নেতৃত্ব দেওয়া কঠিন হলেও এটি অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক একটি দায়িত্ব। নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের নিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে আমি মুখিয়ে আছি।”
নতুন কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে তিনি বলেন, “স্টিফেন অসাধারণ একজন নেতা এবং ক্রিকেট সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান রয়েছে। তার সঙ্গে কাজ করে একটি সফল দল গড়ে তোলার অপেক্ষায় আছি।”
টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় ভারতের শচীন টেন্ডুলকারের (১৫,৯২১) পরই রয়েছেন রুট। বর্তমানে তার সংগ্রহ ১৪,১১৪ রান।
নতুন চ্যালেঞ্জে ফ্লেমিং
৫৩ বছর বয়সী স্টিফেন ফ্লেমিং এমন এক সময়ে ইংল্যান্ডের দায়িত্ব নিলেন, যখন দলটি টেস্ট ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাশিত ফল পাচ্ছে না। তবে ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ইংল্যান্ডের সীমিত ওভারের (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন।
নিয়োগের প্রতিক্রিয়ায় ফ্লেমিং বলেন, “ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের প্রধান কোচ হওয়া অত্যন্ত সম্মানের। বিশ্ব ক্রিকেটে এটি অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব। জো রুটের মতো একজন বিশ্বমানের ক্রিকেটারের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি রোমাঞ্চিত।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু ম্যাচ জেতা নয়, দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক দল গড়ে তোলাও।”
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে সফল কোচ হিসেবে পরিচিত ফ্লেমিংয়ের অধীনে চেন্নাই সুপার কিংস আইপিএলে একাধিক শিরোপা জিতেছে। তবে আন্তর্জাতিক টেস্ট দলের প্রধান কোচ হিসেবে এটিই হবে তার প্রথম দায়িত্ব।
ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর পরিবর্তন
ব্রেন্ডন ম্যাককালামের অধীনে শুরুটা দারুণ হলেও শেষদিকে ছন্দ হারায় ইংল্যান্ড। তার কোচিংয়ে প্রথম ১২ টেস্টের মধ্যে ১০টিতে জয় পেলেও পরবর্তী ৩৭ টেস্টে ১৮টি ম্যাচে হারে দলটি। শেষ ৯ টেস্টের মধ্যে ৭টিতেই পরাজয়ের মুখ দেখতে হয় ইংল্যান্ডকে।
এ সময় অস্ট্রেলিয়া বা ভারতের বিপক্ষে কোনো পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি ইংলিশরা। বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় ইংল্যান্ডের অবস্থান সপ্তম।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন ফ্লেমিং। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইংল্যান্ডের সাবেক ওপেনার ও বর্তমান সহকারী কোচ মার্কাস ট্রেসকোথিক।