
গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বিথিসহ চারজনের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রিমান্ডকৃত অপর দুই আসামি হলেন— রূপালী খাতুন ও সুফিয়া বেগম। রূপালী ও সুফিয়া বিমান এমডির বাসার গৃহকর্মী।
আসামিদের মধ্যে সাফিকুর রহমানের পাঁচ দিন, তার স্ত্রী বিথির সাত দিন, রূপালী খাতুনের পাঁচ ও সুফিয়া বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন শুনানি শেষে তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উত্তরা পশ্চিম থানার (নারী ও শিশু) আদালতে সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক তাহমিনা আক্তার বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টর এলাকার নিজ বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরের দিন ২ ফেব্রুয়ারি তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। অপর দিকে তাদের আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহম্মেদ তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাদের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আসামিদের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন আদালত।
সূত্র : বাসস
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, সাফিকুর রহমানের বাসায় ১১ বছরের এক শিশু ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে কাজ করতো। এরপর ৩১ জানুয়ারি শিশুটিকে তার বাবার কাছে বুঝিয়ে দেন আসামিরা। তখন তার বাবা দেখতে পান যে, শিশুটি মারপিটসহ খুন্তি আগুনে গরম করে তার শরীরের বিভিন্নস্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে গুরুতর জখম অবস্থায় রয়েছে। এরপর শিশুটির বাবা তাকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ১ ফেব্রুয়ারি উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাফিকুর রহমান এবং তার স্ত্রী বিথিকে আসামি করা হয়।