
যানজটে ধীরগতিতে এগিয়ে চলছে ফেরারি, ল্যাম্বরগিনির মতো দামি গাড়ি। নতুন নতুন স্টেকহাউসে পরিবেশন করা হচ্ছে বিদেশ থেকে আমদানি করা ওয়াগিউ গরুর মাংস। মিয়ামি ও জ্যামাইকা থেকে উড়িয়ে আনা হচ্ছে ডিজে। আর জর্জটাউনের সামাজিক আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে বিলাসবহুল বিয়ের আয়োজন।
দক্ষিণ আমেরিকার ছোট দেশ গায়ানার রাজধানী জর্জটাউনে এখন এমন দৃশ্যই চোখে পড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ থেকে ভৌগোলিকভাবে অনেক দূরে দেশটি। কিন্তু সেই সংঘাত বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বাধা তৈরি করেছে এবং বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে চাপ বাড়িয়েছে। সেই পরিস্থিতিই আবার গায়ানার জন্য তেল বিক্রি থেকে বিপুল আয় করার সুযোগ তৈরি করেছে।
ভেনেজুয়েলার সীমান্তঘেঁষা ইংরেজিভাষী দেশটির জনসংখ্যা মাত্র ১০ লাখ। কয়েক বছর আগে তেল উত্তোলন শুরু করা গায়ানা চলতি বছর আনুমানিক ৬৫০ কোটি ডলার তেল রাজস্ব পেতে পারে। বছরের শুরুতে করা পূর্বাভাসের তুলনায় এই অঙ্ক দ্বিগুণেরও বেশি।
যুদ্ধের প্রভাবে তেলের বাজারে গায়ানার গুরুত্ব
ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেবসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে গায়ানার তেল বিক্রি থেকে আয়ও দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের বড় পরিবর্তনের মধ্যেও দেশটি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করেছে।
আমেরিকা মহাদেশে বাড়ছে তেল উৎপাদন
মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ায় উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। গায়ানার পাশাপাশি কানাডা, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাতেও তেল উৎপাদন বাড়ছে। ভেনেজুয়েলাতেও শিগগির উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জর্জটাউনের অর্থনীতিবিদ রিচার্ড রামবারান বলেন, দেশ হিসেবে গায়ানা ছোট হলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যে এর গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। তার মতে, এটি কেবল শুরু।
বর্তমানে গায়ানায় প্রতিদিন প্রায় ৯ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হচ্ছে। রামবারানের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতা ১৭ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হতে পারে।
সরকারি হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে গায়ানার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩৩ শতাংশে পৌঁছেছে। এই প্রবৃদ্ধির ফলে দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে।
তবে তেলনির্ভর এই অর্থনৈতিক উত্থানের অন্য একটি দিকও সামনে আসছে। অর্থের প্রবাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে উত্তেজনা ও অসন্তোষ তৈরির ঝুঁকিও বাড়ছে।
তেলের অর্থ কি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে?
অনেক গায়ানাবাসীর অভিযোগ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে সমানভাবে পৌঁছাচ্ছে না। বরং একটি সীমিত অভিজাত গোষ্ঠী বিপুল সম্পদ গড়ে তুলছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে মূল্যস্ফীতি, ব্যাপক দুর্নীতি, আবাসন সংকট এবং নিম্নমানের সরকারি সেবার মতো সমস্যার।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, গায়ানা এখন উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা পেয়েছে। দেশটির মাথাপিছু বার্ষিক আয় প্রায় ৩২ হাজার ডলার। দক্ষিণ আমেরিকার অন্য দেশগুলোর তুলনায় এই আয় বেশি; এমনকি তুলনামূলক সমৃদ্ধ উরুগুয়ে ও চিলির চেয়েও তা বেশি।
কিন্তু রাজধানী জর্জটাউনের বাস্তব চিত্র দেখলে দেশটি হঠাৎ উন্নত অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে—এমনটা মনে হওয়ার কারণ নেই।
জর্জটাউনের খালগুলো দিয়ে অপরিশোধিত পয়োনিষ্কাশনের পানি প্রবাহিত হয়। জরাজীর্ণ বাড়িগুলোতে অনেক পরিবার গাদাগাদি করে বসবাস করে, যেগুলো বন্যা ও অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশৃঙ্খল মোড় পার হতে পথচারীদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ে। বন্দুকের মুখে ছিনতাইও সেখানে নিয়মিত ঘটনা।
বদলে যাচ্ছে জর্জটাউন, বাড়ছে বিতর্ক
তেল থেকে পাওয়া অর্থের প্রভাবে দ্রুত বদলে যাচ্ছে জর্জটাউনের চেহারা। তবে এই পরিবর্তনও নতুন বিরোধের জন্ম দিয়েছে।
শহরের ঐতিহাসিক কাঠের স্থাপনাগুলো ভেঙে আবাসন ব্যবসায়ীরা সেখানে কংক্রিট ও ইস্পাতের বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন।
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক থমাস সিং বলেন, বর্তমানে যেসব স্থাপনা তৈরি হচ্ছে, তার সবই কুৎসিত।
ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা গায়ানার অর্থনীতির একটি বড় বৈপরীত্যও প্রকাশ করেছে। দেশটি বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করলেও সেই তেল থেকে গ্যাসোলিন বা ডিজেলের মতো জ্বালানি উৎপাদনের অবকাঠামো নেই।
ফলে গায়ানা জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল এবং দেশটিতে বিদ্যুতের দামও বেশি। চলতি বসন্তেও দেশটি সাময়িক জ্বালানি সংকটে পড়েছিল।
তেল থেকে পাওয়া বিপুল অর্থের সুবিধা অসমভাবে বণ্টিত হচ্ছে—এমন অভিযোগও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্নীতি, মূল্যস্ফীতি এবং তেল খাতের বাইরে অর্থনীতির দুর্বলতা গায়ানাকে অন্যান্য তেলসমৃদ্ধ দেশের মতো সমস্যায় ফেলতে পারে কি না, সেই উদ্বেগও বাড়ছে।
ব্যবসায়ীদের পাল্টা যুক্তি
উড়োজাহাজ ও আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী জেরি গোভিয়া জুনিয়র অবশ্য এসব আশঙ্কাকে অতিরঞ্জিত বলে মনে করেন।
তার মতে, বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কর্মীদের কাজে যুক্ত করতে বাধ্য করা প্রয়োজন। গায়ানার সার্বভৌম সম্পদ তহবিলও এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।
গোভিয়া বলেন, ‘অন্য দেশগুলো কোথায় ভুল করেছে, গায়ানার নেতৃত্ব তা জানে।’
অবকাঠামোতে বিনিয়োগ এবং শক্তিশালী কৃষি খাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখাচ্ছি যে সবকিছু সঠিকভাবে করার সুযোগ আমাদের রয়েছে।’
তবে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও গায়ানা সরকার কোনো সাড়া দেয়নি।
অন্যদিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইরফান আলী প্রকাশ্যে বলেছেন, এই অর্থনৈতিক উত্থানের সুফল গায়ানার ‘প্রতিটি পরিবার’ পাবে। মূল্যস্ফীতির প্রভাব থেকে নাগরিকদের সুরক্ষায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছেও বাড়ছে গায়ানার গুরুত্ব
গায়ানার অর্থনৈতিক উত্থানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েছে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম তেল কোম্পানি এক্সনমবিলের অন্যতম প্রধান প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।
ট্রাম্প প্রশাসন যখন পশ্চিম গোলার্ধের জ্বালানি সম্পদের ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, তখন গায়ানার কৌশলগত গুরুত্বও বাড়ছে।
গায়ানার সরকারি কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, তেল রাজস্বের কারণে মানুষের জীবনযাত্রার মানে মৌলিক পরিবর্তন আসছে। তারা কর কমানো, সেতু ও মহাসড়কের মতো অবকাঠামো নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি বাতিল এবং নাগরিকদের প্রায় ৫০০ ডলার করে এককালীন অর্থ দেওয়ার বিষয়গুলোকে এর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন।
গায়ানার জনসংখ্যা তুলনামূলক কম এবং দেশটির তেলের মজুত বিপুল হওয়ায় এসব উদ্যোগ দ্রুত সাধারণ মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠছে। সম্প্রতি মাথাপিছু তেল মজুতের মূল্যমান বিবেচনায় কুয়েতের পর গায়ানার অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয় বলে অনুমান করা হয়েছে।
ফেরি দুর্ঘটনায় উন্নয়নের দাবিতে প্রশ্ন
তবে তেলসমৃদ্ধির এই চিত্রের সঙ্গে বাস্তবতার বৈপরীত্য আরও স্পষ্ট হয় জুলাইয়ের একটি ঘটনায়। সরকারি মালিকানাধীন একটি ফেরি ডুবে প্রায় ১০০ জন নিহত হন। ১৯৭৮ সালের জোনসটাউন গণহত্যা ও আত্মহত্যার পর এটিই ছিল গায়ানার সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা।
দুর্ঘটনার পর বিক্ষোভ ও শোকসভায় অংশ নেওয়া মানুষ প্রশ্ন তোলেন—বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিতে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে?
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য ছিল, নিহতদের অনেকেই এমন মানুষ, যারা গায়ানা সরকারের তেলসম্পদ থেকে বাড়তে থাকা আয়ের সময়ও নিজেদের জীবন চালাতে সংগ্রাম করছিলেন।
ঘটনার পর জবাবদিহির দাবিতে বিক্ষোভ করে গ্রেপ্তার হওয়া আইনজীবী রোমোলা লুকাস বলেন, ‘এমন একটি উত্থানের কথা শুনতে শুনতে আমরা ক্লান্ত, যার কোনো সুফল অধিকাংশ গায়ানাবাসীর জীবনে নেই।’
তেলের অর্থনীতি রাজনীতিতেও চাপ তৈরি করছে
দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থাতেও তেলনির্ভর অর্থনৈতিক উত্থানের চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
২০২০ সালে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট ইরফান আলী জর্জটাউনের কাছে একটি খামার কেনার ঘটনায় দুর্নীতি হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। আধুনিক দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ নির্বাচনী অচলাবস্থার পর তিনি ক্ষমতায় এসেছিলেন।
আলী অবশ্য বারবার সব ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে বিরোধীদলীয় নেতা আজরুদ্দিন মোহামেদ ওই খামারকে ঘিরে ক্ষমতাসীনদের অথবা তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সামনে এনেছেন।
মোহামেদ নিজেও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্ত নন। সোনা চোরাচালান ও ঘুষের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসন তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
ভেনেজুয়েলার সঙ্গে পুরোনো বিরোধ আরও জটিল
গায়ানার অর্থনৈতিক উত্থানের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবও দেশটির ওপর পড়ছে।
এক্সন এক দশকেরও বেশি সময় আগে বিরোধপূর্ণ এসেকুইবো অঞ্চলের উপকূলীয় জলসীমায় তেলের সন্ধান পাওয়ার পর দুই দেশের পুরোনো বিরোধ আরও তীব্র হয়।
এর মধ্যে ভেনেজুয়েলার নেতারা গায়ানার অর্ধেকেরও বেশি ভূখণ্ডের ওপর নিজেদের দাবি আরও জোরালো করছেন।
দুই দেশের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। ভেনেজুয়েলা এর আগে এসেকুইবো সীমান্তের দিকে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করেছে। এক্সনের ভাড়া করা একটি ভূকম্পন গবেষণা জাহাজও তারা আটক করেছিল। একই সঙ্গে গায়ানার একটি সামরিক জাহাজকে লক্ষ্য করে গুলিও চালানো হয়েছিল।
এক বছরেরও কম সময় আগে জর্জটাউনের একটি মবিল গ্যাস স্টেশনে বিস্ফোরণের ঘটনায় এক ভেনেজুয়েলান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই ঘটনায় ৬ বছরের একটি শিশু নিহত হয়। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছিল। গায়ানাকে অস্থিতিশীল করার কোনো প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ঘটনাটি ঘটানো হয়ে থাকতে পারে কি না, সেই সম্ভাবনাও সামনে এসেছিল।
তবে ভেনেজুয়েলার সরকার হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর গায়ানার অনেকেই মনে করেছিলেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে তাদের বিরোধ হয়তো কমে আসবে।
কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি বিপরীত দিকে গেছে।
ভেনেজুয়েলার নতুন নেতা দেলসি রদ্রিগেজ এই বিরোধকে তার পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার করেছেন। এমনকি জাতিসংঘের অংশ নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গিয়ে ভেনেজুয়েলার দাবির পক্ষে বক্তব্যও দিয়েছেন তিনি।
রদ্রিগেজের এসব পদক্ষেপ গায়ানার কর্মকর্তাদের বিস্মিত করেছে। কারণ এর আগে যুক্তরাষ্ট্র গায়ানার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা করতে চেয়েছিল এবং গায়ানার একটি জাহাজে হামলার পর দেশটির পাশে দাঁড়িয়েছিল।
এসেকুইবো নিয়ে আন্তর্জাতিক রায়ের অপেক্ষা
সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায় ২০২৭ সালের শুরুতে আসতে পারে।
তার আগে গায়ানার কিছু মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—ট্রাম্প প্রশাসন কি কার্যত দুই পক্ষের সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রেখে এসেকুইবোর জ্বালানি সম্পদের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে?
অর্থনীতিবিদ থমাস সিং বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু নেই, শুধু স্বার্থ আছে।’
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকা মহাদেশে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে ভূখণ্ড নিয়ে বিরোধের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি।
শ্রমবাজারে বাড়ছে অভিবাসীদের উপস্থিতি
গায়ানার সামনে আরেকটি বড় পরিবর্তন হচ্ছে জনসংখ্যার কাঠামোতে। কাজের সন্ধানে কিউবা ও ভেনেজুয়েলা থেকে হাজারো অভিবাসী দেশটিতে প্রবেশ করছেন।
দেশটির শ্রমিক সংকট কমাতে গায়ানা সরকার মূলত এই অভিবাসনপ্রবাহকে স্বাগত জানিয়েছে।
অভিবাসীদের এই আগমন গায়ানা ও ভেনেজুয়েলার পরিবর্তিত পরিস্থিতির একটি স্পষ্ট প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। একদিকে গায়ানা দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে ভেনেজুয়েলা বছরের পর বছর ধরে চলা স্থবিরতা ও পতন কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
সম্প্রতি গায়ানায় আসা ৩৯ বছর বয়সী ভেনেজুয়েলান অভিবাসী মিরেলিস রামোস বলেন, ‘এই জায়গায় কাজের সুযোগ আছে।’
ব্যস্ত বোর্দা মার্কেটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে অনেক সময় তার নিজেকে স্থানীয় মানুষের মতোই মনে হয়।
‘আমার ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ দেখি না,’ বলেন তিনি।