চট্টগ্রামের রাউজানে মাসুদ চৌধুরী নামে এক বিএনপি ও যুবদল নেতাকে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে দিনদুপুরে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে এক যুবকের ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে (ভাইরাল)। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রকাশ্যে মাসুদকে গুলি করা একদল সন্ত্রাসীর মধ্যেই এই অস্ত্রধারী যুবক অন্যতম।
গতকাল শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে রাউজান উপজেলার পাহাড়তলী বাজারে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত মাসুদ চৌধুরী উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সহসভাপতি এবং বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন।
প্রকাশ্য বাজারে মাথায় ঠেকিয়ে গুলি
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে চুয়েট (CUET) সংলগ্ন পাহাড়তলী বাজারে অবস্থান করছিলেন মাসুদ চৌধুরী। এ সময় একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী প্রকাশ্যেই তাঁর ওপর আচমকা হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে খুব কাছ থেকে মাসুদের মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে এবং মুহূর্তের মধ্যে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এই হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ফেসবুকে ছবি ভাইরাল, তদন্তে পুলিশ
হত্যাকাণ্ডের পরপরই ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যায়, এক যুবক প্রকাশ্যে বড় একটি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয়দের দাবি, নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ এলাকায় বালুর ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন। শনিবার দুপুরে যখন তাঁকে পাহাড়তলী চৌমুহনীতে টার্গেট করে গুলি করা হয়, তখন এই ভাইরাল হওয়া অস্ত্রধারীকে সরাসরি ঘটনাস্থলে দেখা গেছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম বলেন, “আমরা ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থল ও আশেপাশের সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে, তা উদ্ঘাটনে গভীর তদন্ত শুরু হয়েছে। আশা করছি, খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে জড়িত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।”
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অস্ত্রধারী যুবকের ছবিটিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে এসেছে। ছবিটির সত্যতা যাচাইসহ ওই যুবকের সঠিক পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করতে গোয়েন্দা পুলিশসহ (ডিবি) একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের জেরে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা সহিংসতা এড়াতে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার সীমান্ত এবং সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।