
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মধ্যে ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে নজির গড়ছে ভারত—সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এগিয়ে দিচ্ছেন অর্থ, গয়না ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। এই মানবিক উদ্যোগের জন্য দিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস ভারতের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।
ইরানের উদ্দেশ্যে ভারত সরকার ইতোমধ্যে ওষুধ ও ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সাধারণ মানুষও ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা দিচ্ছেন। জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশসহ নানা প্রান্ত থেকে কেউ সঞ্চিত অর্থ, কেউ গয়না, আবার কেউ ঐতিহ্যবাহী বাসনপত্র দান করেছেন।
দিল্লির ইরানি দূতাবাস জানিয়েছে, এই সহমর্মিতায় তারা আবেগাপ্লুত। ভবিষ্যতেও যাতে আর্থিক অনুদান ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকে, সে লক্ষ্যে ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল। পাশাপাশি সরাসরি দূতাবাসে এসে নগদ অনুদান দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
এদিকে, গত সোমবার ইরানের মাশহাদ বিমানবন্দরে মার্কিন বিমান হামলায় মাহান এয়ারের একটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বিমানটি বিভিন্ন দেশ থেকে পাঠানো ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ত্রাণ বহন করছিল। ভারতের পাঠানো সহায়তাও ওই বিমানে থাকার কথা ছিল বলে জানা গেছে, যদিও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
ভারত-ইরান সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব শক্তিগুলো বিভিন্ন অবস্থান নিলেও ভারত সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতা’ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে ‘সংযম’ প্রদর্শনের অনুরোধ করেছে।
ইরানের মিনাব অঞ্চলের একটি স্কুলে হামলার পর ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ভারতীয়দের অংশগ্রহণ আরও বাড়ে। দিল্লির দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মাটির ভাঁড় ও ফুলের ছবি প্রকাশ করে জানায়, এক শিশু তার সঞ্চিত অর্থ দান করেছে।
কাশ্মীর, কেরালা, উত্তরপ্রদেশসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকেও ধারাবাহিকভাবে অর্থ ও সহায়তা পৌঁছাচ্ছে। কাশ্মীরের বদগাম ও বারামুল্লাসহ শিয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ঈদ-উল ফিতরের পর স্বেচ্ছাসেবীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তহবিল সংগ্রহ করেছেন। শুধু অর্থ নয়, অনেকেই সোনা-রুপার গয়না, গবাদি পশু এবং তামার ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী দান করেছেন।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মীরাটের তিন ভাই ইরানে হামলায় নিহত শিশুদের পরিবারের সহায়তায় প্রায় ১৫ লাখ রুপি মূল্যের একটি জমি দান করেছেন। জমিটি নিলামে তুলে প্রাপ্ত অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণ করা হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
ইরানি দূতাবাস এই মানবিক উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করে পুনরায় অনুদানের আহ্বান জানিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এক বার্তায় জানানো হয়েছে, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অনুদান গ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তাই সরাসরি দূতাবাসে নগদ সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন লেনদেনের সমস্যা দ্রুত সমাধানে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর দিল্লি, জম্মু ও কাশ্মীরসহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে শোক প্রকাশে রাস্তায় নামেন অনেক মানুষ। সূত্র: বিবিসি