
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস থেমেছে ৩৫৬ রানে। দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো এক ইনিংসে ছয় উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন এই পেসার। তবে সফরকারীদের বড় সংগ্রহের জবাব দিতে নেমে শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। ২২ রান তুলতেই সাজঘরে ফিরেছেন নাঈম হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম।
আগের দিনের ৪ উইকেটে ২৩৫ রান নিয়ে শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অপরাজিত দুই ব্যাটার আমির জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রিভস পঞ্চম উইকেটে শতরানের জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন। আগের দিনই সেঞ্চুরি পাওয়া জাঙ্গু আরও বড় সংগ্রহের পথে এগোচ্ছিলেন। তবে নতুন বলে আক্রমণে এসে তাদের জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ।
আগের দিন জাঙ্গুর ফিরতি ক্যাচ ছাড়ায় জীবন দিয়েছিলেন হাসান। দ্বিতীয় দিনে তাকে বোল্ড করে সেই আক্ষেপ ঘোচান বাংলাদেশের এই পেসার। ২১২ বলে ১৩ চার ও দুই ছক্কায় ১৩৩ রান করেন জাঙ্গু। পরের বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে অধিনায়ক রোস্টন চেজকে গোল্ডেন ডাকে ফেরান তিনি।
পরপর দুই বলে দুই উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি করেন হাসান। হ্যাটট্রিক বলে জশুয়া বিশপের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন মঞ্জুর করেন আম্পায়ার। তবে রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান বিশপ। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল তার ব্যাটে লেগেছিল। পরে বিশপকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন হাসান। এরপর সামার জোসেফকে বোল্ড করে এক ইনিংসে ছয় উইকেট পূর্ণ করেন তিনি।
বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচবার পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি রয়েছে হাসানের। এ ছাড়া পাঁচটি ভিন্ন দেশের বিপক্ষে টেস্টে প্রথম ফাইফার নেওয়া দ্বিতীয় বোলার হয়েছেন তিনি। আগের দিন দুটি উইকেট পাওয়া তাসকিন আহমেদ দ্বিতীয় দিনে আর উইকেট পাননি। বাকি দুটি উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। জেইডেন সিলসকে ফিরিয়ে শেষ ৩৩ রানের জুটি ভাঙেন এই স্পিনার।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জাঙ্গুর ১৩৩ রানের পর গ্রিভস করেন ৫১। দশম ব্যাটার জোমেল ওয়ারিকান ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন।
৩৫৭ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে পঞ্চম ওভারেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। নাঈম হাসানকে ৫ রানে ব্র্যান্ডন কিংয়ের ক্যাচে পরিণত করেন জেইডেন সিলস। এরপর গ্রিভসের বলে ১৬ রান করে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম। ফলে ২২ রানেই দুই ওপেনারকে হারায় স্বাগতিকরা।
এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসের ৭৮তম ওভারে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন বাংলাদেশের ওপেনার সাদমান ইসলাম। মেহেদী হাসান মিরাজের করা ওভারের প্রথম বলটি লেগ সাইডে ফ্লিক করেন জাঙ্গু। বাউন্ডারির দিকে যাওয়া বল আটকাতে দৌড়ে যান সাদমান। নিচু হয়ে বল থামানোর চেষ্টা করার সময় তার বাঁ পায়ের গোড়ালি মাটিতে আটকে যায়। সঙ্গে সঙ্গেই তীব্র ব্যথায় কাতরাতে থাকেন তিনি।
দ্রুত মাঠে এসে ফিজিও প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও সাদমানের অবস্থার উন্নতি হয়নি। যন্ত্রণায় মুখ ঢেকে মাঠে পড়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। পরে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয় এই বাঁহাতি ওপেনারকে। বাংলাদেশের ইনিংসে সাদমান ব্যাট করতে না পারলে তা দলের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
প্রথম দিন টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে পেসারদের দাপটে ভালো সূচনা পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে জাঙ্গু ও গ্রিভসের জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের হাতে। দ্বিতীয় দিনে হাসানের ছয় উইকেটের সুবাদে শেষ পর্যন্ত ৩৫৬ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারীদের ইনিংস।