
ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি ভিউ ও আয়ের আশায় নারী বাইকার ও নাবালিকাদের লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃতভাবে যানবাহনে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগে এক ইউটিউবারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি ঘটনাগুলো গোপনে ভিডিও ধারণ করে পরে অনলাইনে প্রকাশ করতেন।
রোববার (২৮ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের নাম গুরমান সিং। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রোড সেফটি ওয়ালা’ নামে একটি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতেন। অভিযোগ রয়েছে, অধিক ভিউ পাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি নারী ও শিশুদের অনুমতি ছাড়াই ভিডিও ধারণ করতেন এবং রাস্তায় তাদের হয়রানির ঘটনাও ঘটাতেন।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার পশ্চিম দিল্লির সুভাষ নগর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২ জুন। রাজা গার্ডেন এলাকার এক বাসিন্দা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি তার দুই নাবালিকা মেয়ের স্কুটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এরপর তারা মেয়েদের অনুসরণ করে আপত্তিকর মন্তব্য করতে থাকে। পরে তিনি দেখতে পান, ঘটনার ভিডিও অভিযুক্তের ফেসবুক ও ইউটিউব অ্যাকাউন্টে আপলোড করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, গুরমান সিং পরিকল্পিতভাবে নারী চালক বা যানবাহনের পেছনে বসা নারী ও নাবালিকাদের টার্গেট করতেন। এরপর তাদের গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে দেখানোর চেষ্টা করতেন। সন্দেহ এড়াতে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ‘সরি’ বলার পর গোপনে ভিডিও ধারণ করে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিতেন।
পশ্চিম দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) হারেশ্বর স্বামী জানান, গুরমান ‘বাইকারঅনরোড৩৩’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করতেন। সেখানে প্রায় ২১ হাজার সাবস্ক্রাইবার রয়েছে। এছাড়া তার ফেসবুক পেজে অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, তার প্রকাশিত অধিকাংশ ভিডিওতেই নারী ও নাবালিকাদের দেখা যায়। জিজ্ঞাসাবাদে গুরমান স্বীকার করেছেন, অনুসারী বৃদ্ধি, ভিডিও ভাইরাল করা এবং ইউটিউব ও ফেসবুক থেকে আয় বাড়ানোর লক্ষ্যেই তিনি এসব কনটেন্ট তৈরি করতেন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, দর্শকদের বেশি আকৃষ্ট করতেই তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নারীদের লক্ষ্যবস্তু বানাতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। সেখান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সংক্রান্ত বিভিন্ন ভিডিও, স্ক্রিনশট ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি