
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সহযোগিতা কামনা করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) অর্জনে সংস্থাটির সমর্থন আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৭ জুলাই) বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির আবাসিক প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো এইচ উশিয়ামা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য ডব্লিউএফপির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য সংস্থাটির চলমান সহায়তারও প্রশংসা করেন তিনি।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক ও টেকসই সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন।
এ সময় তিনি ডব্লিউএফপির স্কুল মিল কর্মসূচির ইতিবাচক অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সরকার পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে ডব্লিউএফপির সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
জবাবে ডব্লিউএফপির আবাসিক প্রতিনিধি কোকো এইচ উশিয়ামা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি খাতে যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলায় ডব্লিউএফপি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ক্ষুধা ও ঝুঁকি কমাতে সংস্থাটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, খুলনা বিভাগ ও হবিগঞ্জে ডব্লিউএফপির বিভিন্ন কার্যক্রমের আওতায় সামাজিক নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ভূমিকম্প প্রস্তুতি বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে।