
বাংলাদেশ থেকে বছরে এক লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে জাপান সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এ-সংক্রান্ত খবরকে ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেছে জাপান।
বৃহস্পতিবার এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস সেক্রেটারি কিতামুরা তোশিহিরো বলেন, বাংলাদেশ থেকে বছরে এক লাখ কর্মী নেওয়ার খবরের কোনো ভিত্তি নেই। গত ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ ও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকেও এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের বিবরণ দেখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
জাপানের এই বক্তব্য এমন সময়ে এল, যখন দেশটিতে বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। কয়েকটি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়, জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা কাজে লাগিয়ে বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে কারিগরি প্রশিক্ষণার্থী, নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী ও বিভিন্ন খাতের পেশাজীবীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
তবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনা এবং জাপান সরকারের নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মী নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেওয়া এক বিষয় নয়। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২৭ অক্টোবরের বৈঠকের বিবরণে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ কর্মী নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্তের উল্লেখ নেই।
বৈঠকের বিবরণ অনুযায়ী, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাতের এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ‘স্পেসিফায়েড স্কিলড ওয়ার্কার’ (এসএসডব্লিউ) বা নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী এবং ‘টেকনিক্যাল ইন্টার্ন’ হিসেবে জাপানে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ২০১৯ সালে এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি সহযোগিতা স্মারক সই হয়।
তবে ভাষাগত দক্ষতা ও অন্যান্য কঠোর যোগ্যতার শর্ত পূরণ করে জাপানে কর্মী যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এখন পর্যন্ত বছরে এক লাখ কর্মী পাঠানোর বিষয়ে কোনো চুক্তি বা সমঝোতার তথ্য পাওয়া যায়নি।