
বাংলাদেশ সীমান্তে জোরপূর্বক এক ভারতীয় বৃদ্ধকে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) বিএসএফের চতুর প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার হাটখোলা সীমান্তে আজ রোববারের এই ঘটনার পর দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে তীব্র মানসিক ও কৌশলগত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অনুপ্রবেশের এই বেআইনি চেষ্টা স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় বিজিবি প্রতিরোধ করার পর ওই প্রবীণ ব্যক্তিকে পুনরায় ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
আজ রোববার (১৪ জুন) সকাল থেকে হাটখোলা সীমান্তের মেইন পিলার ২৭৯ এবং সাব পিলার ২৭ সংলগ্ন এলাকা জুড়ে এই টানটান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুদেশের সীমানাকে বিভক্তকারী শূন্যরেখায় (জিরো লাইন) আনুমানিক ৭৫ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধকে দীর্ঘক্ষণ ধরে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উভয় সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে মুখোমুখি অবস্থান নেয় বিজিবি ও বিএসএফের জওয়ানরা।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্রামবাসীরা জানান, সকালে সীমান্তঘেঁষা জমিতে কয়েকজন বাংলাদেশী কৃষক দৈনন্দিন কাজ করছিলেন। ওই সময় হঠাৎ ওই বৃদ্ধ সেখানে এসে তাদের কাছে খাবার ও পান করার জন্য পানি চান। কথা বলার একপর্যায়ে তিনি নিজেকে স্পষ্ট ভাষায় ভারতের নাগরিক বলে পরিচয় দেন। বিষয়টি অস্বাভাবিক ঠেকায় কৃষকেরা তাৎক্ষণিকভাবে হাটখোলা বিজিবি ক্যাম্পের কর্মকর্তাদের পুরো ঘটনাটি অবহিত করেন। পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা এসে আইনি প্রক্রিয়ায় ওই বৃদ্ধকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠান। কিন্তু বিএসএফ কর্তৃপক্ষ তাদের নিজেদের নাগরিককে সহজে গ্রহণ না করে দীর্ঘ সময় ধরে নো ম্যানস ল্যান্ডের শূন্যরেখায় বসিয়ে রেখে টালবাহানা করতে থাকে।
সার্বিক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ে বিজিবির নায়েব সুবেদার মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন:
“বিএসএফ এক বৃদ্ধকে বাংলাদেশে পুশইন করেছিল। আমরা তাকে পুশব্যাক করেছি। বৃদ্ধটি ভারতের নাগরিক। সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে।”