
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে এর বিনিময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে তিনটি স্পষ্ট শর্ত উত্থাপন করেছে তারা।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) লাহোরে আইসিসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে পিসিবির এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে পিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারত–পাকিস্তানের বহুল আলোচিত ও উচ্চভোল্টেজ ম্যাচটি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মাঠে গড়ানোর পথ বের করা। আলোচনায় পিসিবি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হলে আইসিসিকে তিনটি শর্ত মানতে হবে।
পিসিবির শর্তগুলো হলো—
এক. রাজস্ব বণ্টনে পাকিস্তানের অংশ বৃদ্ধি:
বর্তমানে আইসিসির মোট আয়ের ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ পায় পিসিবি, যা বছরে প্রায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার। এই অংশ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বোর্ডটি।
দুই. ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ পুনরায় চালু:
এই শর্ত বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, কারণ ভারত–পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ মূলত দুই দেশের সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। এ ক্ষেত্রে আইসিসির সরাসরি কোনো কর্তৃত্ব নেই।
তিন. আন্তর্জাতিক ম্যাচে হ্যান্ডশেক প্রটোকল কঠোরভাবে বাস্তবায়ন:
২০২৫ এশিয়া কাপের সময় পেহেলগাম হামলার পর ভারতীয় খেলোয়াড়রা পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে করমর্দন এড়িয়ে যান। বিষয়টি নতুন বিতর্ক তৈরি করায় ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ রোধে আইসিসির স্পষ্ট ভূমিকা দাবি করেছে পিসিবি।
এর আগে পাকিস্তান সরকার প্রকাশ্যে জানায়, নিরপেক্ষ ভেন্যুতেও ভারতের বিপক্ষে খেলতে দলকে অনুমতি দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সরকার এই সিদ্ধান্তের পেছনে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা না দিলেও ক্রিকেট বিশ্লেষকদের ধারণা, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানাতেই এমন অবস্থান নিয়েছে ইসলামাবাদ।
নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতের বাইরে ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরই পাকিস্তানও নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করে।
আইসিসি বর্তমানে সমঝোতার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। বৈঠকে আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্ত ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত ছিলেন। লাহোরে উপস্থিত ছিলেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি, আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
ক্রিকবাজের খবরে বলা হয়েছে, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ না হলে আইসিসিকে বিপুল অঙ্কের সম্প্রচার রাজস্ব হারাতে হবে। এই আর্থিক চাপকে কাজে লাগিয়েই নিজেদের দাবি আদায়ের কৌশল নিয়েছে পিসিবি। একই সঙ্গে বাংলাদেশও আইসিসির কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে, যেখানে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।