
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় প্রমত্তা যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে শেরপুর গ্রামের পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। মাত্র চার সপ্তাহের ব্যবধানে রাক্ষুসী যমুনার পেটে চলে গেছে দুই শতাধিক বসতভিটা এবং মরিচ ও পাট ক্ষেতসহ প্রায় তিনশ বিঘার বেশি আবাদি জমি। একের পর এক ঘরবাড়ি হারিয়ে সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের শত শত মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, নদীভাঙনের তীব্র ছোবলে মাত্র ১৫ দিন আগেই সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে চকরতিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই এখন তীব্র ঝুঁকিতে পড়েছে পাশ্ববর্তী নয়াপাড়া ও করমজাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দুটিও।
ভবন ধসে যাওয়ার পর চকরতিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৩ জন কোমলমতি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা সচল রাখতে একটি খোলা সড়কের ওপর টিনের ছাপড়া তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানেই অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে চলছে তাদের পাঠদান কার্যক্রম।
স্কুলের এই চরম সংকটের কথা তুলে ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিন্নাহ আলম বলেন:
‘আমরা অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।’
যমুনার এই দীর্ঘমেয়াদী তাণ্ডব সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য বকুল মিয়া জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে চলমান এই ভাঙনের ফলে চকরতিনাথ, করমজাপাড়া, ধনেরপাড়া, কর্নিবাড়ি এবং শেমুলবাড়ি গ্রামের প্রায় আড়াই হাজার পরিবার নিজেদের ভিটেমাটি হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, শেরপুর গ্রামটি যদি পুরোপুরি নদীগর্ভে হারিয়ে যায়, তবে এই অঞ্চলের মানুষের মাথা গোঁজার মতো আর কোনো ঠাঁই অবশিষ্ট থাকবে না।
এ প্রসঙ্গে হাট শেরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান আলো জানান, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিঃস্ব হওয়া পরিবারগুলোকে জরুরি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে একটি তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাহতাবুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও হুমকিতে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
যমুনার এই ভয়াবহ ভাঙন রোধের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বলেন:
‘শেরপুর এলাকায় ভাঙনের পরিধি বড়। এখানে ছোট পরিসরে কাজ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প গ্রহণ প্রয়োজন। সে লক্ষ্যে একটি কারিগরি কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।’