
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা মামলার রায় আগামী ৭ জুন ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত রায়ের এই তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে দুপুরে আদালতে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে যুক্তি উপস্থাপন করে।
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু যুক্তিতর্কে বলেন, আসামি সোহেল রানার ১৬৪ ধারার জবানবন্দি ও সাক্ষ্য-প্রমাণে স্পষ্টভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তার মতে, ঘটনার সময় আসামি মাদকাসক্ত ছিলেন না, বরং পরিকল্পিতভাবে তিনি ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটান। তিনি আরও বলেন, আসামি স্বপ্না ঘটনাটি প্রতিরোধ করতে পারতেন, কিন্তু তিনি তা করেননি এবং পরে লাশ গুমে সহায়তা করেছেন।
শুনানির এক পর্যায়ে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আদালতে হাজির করা হলে স্বপ্না অস্বাভাবিক আচরণ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সদস্যরা হস্তক্ষেপ করেন এবং আদালত তাকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দি পরস্পর সমর্থন করে এবং ঘটনাস্থলে শিশুটির মরদেহ পাওয়া ও পরবর্তী তদন্তে আসামিদের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে।
অন্যদিকে, আসামিদের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত কিছু বক্তব্যকে রাষ্ট্রপক্ষ বিভ্রান্তিকর দাবি করে বলে, তদন্ত পর্যায়ে দেওয়া জবানবন্দির সঙ্গে পরবর্তীতে দেওয়া বক্তব্যের অসঙ্গতি রয়েছে।
এর আগে গত ২৪ মে মামলার তদন্ত শেষে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠায়। অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার নিখোঁজ হয়। পরে একই বাসার ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন নিহত শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।