.jpg)
লক্ষ্মীপুরে রাতের অন্ধকারে সরকারি একটি দিঘী থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরার ঘটনায় তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের দালাল বাজার এলাকার ঐতিহ্যবাহী খোয়াসাগর দিঘী থেকে দিবাগত রাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে মাছ ধরার এই ঘটনা ঘটে। ভিডিওতে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার হাসান মুহাম্মদ নাহিদ শেখ সুমন ও হাবিবুর রহমানকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়। পরে মাছগুলো সরকারি গাড়িতে করে সরিয়ে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ ওই দিঘী থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি জানাজানি হলে কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে গিয়ে ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় সহকারী কমিশনার শেখ সুমনের কাছে বক্তব্য চাইলে তিনি সরে যান বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো এবং প্রায় ২৫ একর আয়তনের খোয়াসাগর দিঘী দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনায় রয়েছে। একসময় এটি পৌরসভা থেকে ইজারা দেওয়া হলেও প্রায় এক দশক আগে সাবেক জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী দিঘীটি জেলা প্রশাসনের অধীনে নিয়ে আসেন। এরপর থেকে এটি নিয়মিত ইজারা দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে দিঘীতে দিনের বেলায় মাছ ধরার কোনো নজির নেই। অথচ হঠাৎ করেই গভীর রাতে দুই সহকারী কমিশনারের উপস্থিতিতে মাছ ধরা হয় এবং সেগুলো সরকারি গাড়ি—লক্ষ্মীপুর-ঠ ১১-০০১৯ ও ঢাকা মেট্রো-১৩-৩৭৭৮ নম্বরের—মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়।
তাদের দাবি, প্রায় দুই টন মাছ ধরা হয়েছে, যার মধ্যে কাতল, রুই, চিতল, আইড় ও পাঙ্গাস ছিল। কয়েকটি চিতল মাছের ওজন ছিল ৭-৮ কেজি পর্যন্ত। এসব মাছ কোথায় নেওয়া হয়েছে বা কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে দুই ব্যবসায়ীর কাছে প্রায় ১১২ কেজি তেলাপিয়া মাছ বিক্রি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সহকারী কমিশনার হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাছগুলো নিয়ে ডিসি অফিস থেকে পরে জানানো হবে। মাছগুলো ডিসি অফিসে নেওয়া হচ্ছে।’