
দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে ক্রুড অয়েলের সংকটে শোধন প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে, তবে অকটেন ও পেট্রল উৎপাদন স্বাভাবিক আছে এবং সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহে কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলের পর থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির প্রসেসিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অপরিশোধিত তেলের ঘাটতির কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে বিকল্প ব্যবস্থায় অকটেন ও পেট্রল উৎপাদন চালু রাখা হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পুরোপুরি বন্ধ বলা ঠিক হবে না, ডেড স্টক ব্যবহার করে সীমিত আকারে কার্যক্রম চলছে।’ তিনি ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি সাময়িক এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, ‘ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতির পর থেকে নতুন করে কোনো ক্রুড অয়েলের চালান দেশে পৌঁছায়নি।’ তিনি বলেন, সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি একটি জাহাজে করে আসা তেল দিয়েই এতদিন শোধন কার্যক্রম চলছিল।
তিনি আরও জানান, মার্চে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেই চালানটি আসেনি। পরে বিকল্প ব্যবস্থায় সৌদি আরামকোর কাছ থেকে একই পরিমাণ তেল কেনার জন্য ঋণচুক্তি করা হয়েছে, যা আগামী মাসে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা কেবল ইস্টার্ন রিফাইনারির ওপর নির্ভরশীল নই, আমদানি করা পরিশোধিত তেল দিয়েই দেশের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই।’