
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপের মধ্যেও দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় প্রতিরোধের নীতি থেকে সরে আসবে না ইরান—এমন অবস্থানের কথা জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তাঁর ভাষ্য, নিপীড়ন ও জবরদস্তির কাছে নতি স্বীকার না করে দৃঢ়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পথই বেছে নিয়েছে তেহরান। খবর ইরানের তাসনিম নিউজের।
রোববার (৯ আগস্ট) তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইনস্টিটিউট ফর পলিটিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজে ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথিতে মহররম ও আশুরা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আরাঘচি। সেখানে তিনি বলেন, আশুরার আন্দোলন নিপীড়ন, বিচ্যুতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান এবং মানবিক মর্যাদা রক্ষার এক চিরন্তন উদাহরণ।
আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অন্যায়’ হামলায় বহু ইরানি নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে চলতি বছর দেশটিতে মহররম ও আশুরার আয়োজন বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে।
তিনি জানান, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বহু বেসামরিক নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন। তারপরও ইরানের জনগণ নিজেদের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষায় সাহসিকতার সঙ্গে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর মতে, এর মধ্য দিয়ে আশুরার মূল বার্তা বাস্তবে ধারণ করার বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জাতিগুলোকে সাধারণত দুটি পথের একটি বেছে নিতে হয়—নিপীড়নের কাছে আত্মসমর্পণ করা অথবা নিজেদের মূল্যবোধ ও আদর্শ রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
ইমাম হোসাইন (আ.)-এর আদর্শ তুলে ধরে আরাঘচি বলেন, সাহসের প্রকৃত মূল্যায়ন কেবল বিজয়ের মধ্য দিয়ে হয় না; বরং নিজের নীতি ও আদর্শ রক্ষায় আত্মত্যাগের প্রস্তুতিই এর প্রকৃত মাপকাঠি। তাঁর ভাষায়, মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যু অপমানজনক জীবনের চেয়ে শ্রেয়, আর প্রতিরোধের দর্শন দীর্ঘদিন ধরে এই নীতির ওপরই প্রতিষ্ঠিত।
আরাঘচি বলেন, এই আদর্শিক ও কৌশলগত উপলব্ধি থেকেই সব ধরনের চাপের মধ্যেও ইরান প্রতিরোধের নীতিতে অটল রয়েছে। ভবিষ্যতেও, ‘আল্লাহ চাইলে’, দেশটি একই অবস্থান ধরে রাখবে।
তিনি আরও বলেন, ইরান বর্তমানে ‘অন্যায় ও নিপীড়নের ঝড়ের’ বিরুদ্ধে অবস্থান করছে। দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা রক্ষায় যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের ত্যাগের প্রতি ইরান ভবিষ্যতেও অঙ্গীকারবদ্ধ থাকবে।