
পাকিস্তানে এক সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের কারণে তুচ্ছতাচ্ছিল্যের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাতীয় সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, অনেক সময় বাড়াবাড়ি দেখলে ‘তোরা রাজাকার, তোরা আল-শামস, তোরা আলবদর’ বলতে ইচ্ছা করে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে নরসিংদী-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য এসব কথা বলেন। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সভাপতিত্ব করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি একাত্তরে সীমান্ত এলাকায় যুদ্ধ করেছেন এবং মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা নিজের চোখে দেখেছেন। এখন কেউ যখন একাত্তরকে খাটো করে দেখতে চায় বা অন্য ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাখ্যা দিতে চায়, তখন কষ্ট লাগে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ২০০৪ সালে পাকিস্তানে একটি সম্মেলনে গিয়ে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের কারণে তিনি অপমানজনক আচরণের মুখে পড়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা এখনো ভুলতে পারেননি।
তিনি আরও বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সরকার ধৈর্য ধরে চলছে। তবে অতিরিক্ত উসকানি বা বিভাজনমূলক বক্তব্য পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে।
সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ভিন্নধর্মী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় দিয়েছে। দেশের বিদ্যুৎ সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে সর্বদলীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, আন্দোলন ও প্রতিরোধের ধারাবাহিকতা থেকেই সেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তার ভাষায়, ‘আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত যেমন একদিনে হয় না, জুলাই বিপ্লবও তেমনি হঠাৎ করে হয়নি।’
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, উন্নয়ন, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।