
দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন আফগানিস্তানের নারী ফুটবলাররা। ফিফার নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন। এই সিদ্ধান্তকে ‘প্রতিরোধের প্রতীক’ হিসেবে দেখছেন দলটির সাবেক অধিনায়ক খালিদা পোপাল।
২০১৮ সালের পর থেকে আফগান নারী দল কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারেনি। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর দেশটিতে নারীদের খেলাধুলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হলে অনেক খেলোয়াড় দেশ ছেড়ে বিদেশে আশ্রয় নেন।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী আগে কোনো দেশের ফুটবল ফেডারেশনের অনুমোদন ছাড়া জাতীয় দল স্বীকৃতি পেত না। তবে মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কাউন্সিল সভায় নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়। নতুন নিয়মে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে এবং খেলোয়াড়দের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণে ফিফা নিজেই জাতীয় দল নিবন্ধনের অনুমতি দিতে পারবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে আফগান নারী ফুটবলাররা এখন আন্তর্জাতিক ম্যাচে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নিতে পারবেন। ২০২৫ সালের মে মাসে ফিফা ‘আফগান উইমেন ইউনাইটেড’ নামে একটি শরণার্থী দল গঠন করে, যা মূলত বিদেশে থাকা খেলোয়াড়দের নিয়ে তৈরি হয়।
খালিদা পোপাল বলেন, ‘আমাদের দল সব সময় অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের জন্য পরিচিত ছিল। এখন ফিফার এই সমর্থনের ফলে আমরা আমাদের দক্ষতা দেখানোর সুযোগ পাব এবং প্রবাসে থাকা তরুণ প্রতিভাদের বিকাশ ঘটাতে পারব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আফগানিস্তানের ভেতরের নারীদের জন্য অংশ নেওয়া কঠিন হলেও আমরা তাদের কণ্ঠস্বর হয়ে থাকতে চাই।’
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘আফগান উইমেন ইউনাইটেডের এই পথচলা আমাদের জন্য গর্বের। আমরা তাদের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে নিতে চাই।’
জানা গেছে, প্রায় ৮০ জন আফগান নারী ফুটবলার বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছেন। আগামী জুনে নিউজিল্যান্ডে ক্যাম্পের আগে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় খেলোয়াড় বাছাই করা হবে। ২০২৫ সালে ফিফা আয়োজিত সিরিজে লিবিয়ার বিপক্ষে প্রথম জয়ও পেয়েছে আফগান নারী দল।