
দেশে ফেরার ইচ্ছা এখনো অটুট—তবে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কাই বড় বাধা বলে জানিয়েছেন সাকিব আল হাসান। আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে হয়রানির শিকার না হওয়ার নিশ্চয়তা পেলে দ্রুতই দেশে ফিরতে চান তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ১৭ দিন পর রাজধানীর আদাবর থানায় সাকিবের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। পোশাককর্মী মো. রুবেলকে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে মাগুরা-১ আসনের সাবেক এই সংসদ সদস্যকে মামলার ২৮ নম্বর আসামি করা হয়। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে চেক প্রতারণা ও শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট মামলাও রয়েছে।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আর দেশে ফেরেননি সাকিব। বর্তমানে পরিবার নিয়ে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন তিনি। ৫ আগস্টের পর পাকিস্তান ও ভারত সফরে জাতীয় দলের হয়ে খেললেও এরপর আর বাংলাদেশের জার্সিতে দেখা যায়নি তাকে। গত এক-দেড় বছরে তাকে জাতীয় দলে ফেরানোর বিষয়ে আলোচনা চললেও তা বাস্তবায়িত হয়নি, যদিও বিসিবি উদ্যোগের কথা জানিয়েছিল।
সম্প্রতি একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট ইভেন্টে অংশ নিতে মুম্বাইয়ে গিয়েছিলেন সাকিব। সেখান থেকেই এক ফোন সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। মামলাগুলোর আইনি ভিত্তি খুব শক্ত নয় বলেও মনে করেন তিনি।
দেশে ফিরছেন না কেন—এমন প্রশ্নে সাকিব বলেন, “আমার যেসব মামলা, দেশে এসে কিছু করার আছে বলে মনে হয় না। হ্যাঁ, দুদকের মামলায় জামিন নিতে পারি। কিন্তু দুদকের এরকম মামলা তো দেশে হাজার হাজার মানুষের আছে এবং তারা দেশে খুব ভালোভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে, ব্যবসা করছে, সবই করছে।”
গ্রেপ্তারের আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি বলেন, “এখন তো আর কোনো কিছু অস্বাভাবিক মনে হয় না! যদিও আমি আশাবাদী যে ওরকম করা হবে না। যতক্ষণ না আমার দোষ প্রমাণিত হচ্ছে, সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু অনেক কিছুই আমি ভাবতাম এক রকম, হচ্ছে আরেক রকম! কিছুই তাই বলা যায় না।”
তবুও দেশে ফেরার বিষয়ে আশাবাদী সাকিব। তিনি বলেন, “(দেশে ফেরার আশার) পুরোপুরিই আছে। আমি ফিরব, আশা করি তাড়াতাড়িই ফিরতে পারব।”
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আমি দেশে ফিরব, কোর্টে যাব, মামলা লড়ব। কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আমার নিরাপত্তা তো দিতে হবে! এতটুক তো আশা করতেই পারি। আমি বলছি না যে, নিরাপত্তা মানে আমার জন্য রাস্তা বন্ধ করে দিতে হবে বা পুলিশের চারটা গাড়ি সামনে থাকবে। ওরকম তো চাচ্ছি না। তবে একটা স্বাভাবিক নিরাপত্তা তো আছে, আইনী প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত হয়রানি করবে না। ব্যাস, এতটুকুই আশা করি। সাধারণ নাগরিক হিসেবেই তো এটুকু আশা করতে পারি। হয়রানি না করার নিশ্চয়তা যদি কালকে দেওয়া হয়, পরশুই দেশে যাব আমি।”