
ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত একটি শান্তি ও যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিষয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমে শীর্ষ সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শুক্রবারের ওই হাইপ্রোফাইল বৈঠকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে চুক্তির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা ‘সংশোধনের’ নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানায়, ট্রাম্পের দূতরা ইরানের সঙ্গে যে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছেন, তাতে পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত ভাষার সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
পারমাণবিক ধারা ও ইউরেনিয়াম মজুদে কড়াকড়ি
অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প তাঁর আলোচক দলকে চুক্তির পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত ধারাটি সংশোধন করতে বলেছেন। বর্তমান খসড়ায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে না—এমন সাধারণ প্রতিশ্রুতি থাকলেও নির্দিষ্ট কোনো ছাড়ের কথা উল্লেখ নেই।
মার্কিন প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ নিজের নিয়ন্ত্রণে নেবে এবং এতে কত সময় লাগবে, তা চুক্তিতে আরও সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে।”
হরমুজ প্রণালি ও অবাধ নৌ চলাচল
দ্বিতীয় আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি ফের উন্মুক্ত করা নিয়ে প্রস্তাবিত চুক্তির ভাষা পরিবর্তন করতে চান ট্রাম্প। এর আগে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছিলেন যে, ইরানকে অবশ্যই উভয় পক্ষের জন্য ‘অবাধ নৌ চলাচলের’ উপযোগী করে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে এবং ওই জলপথে পাতা সব মাইন ধ্বংস করতে হবে।
তবে ট্রাম্পের এই শর্তের বিপরীতে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, “হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা অবশ্যই ইরান ও ওমানের যৌথ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।”
ইরানের প্রতিক্রিয়া ও ট্রাম্পের ‘রেডলাইন’
হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমে শুক্রবারের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর চুক্তির কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত এই সংশোধনীগুলোর বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া পেতে অন্তত ‘তিন দিন’ সময় লাগবে। মার্কিন প্রশাসন আশা করছে, এই সপ্তাহের শেষের দিকেই তারা তেহরানের কাছ থেকে কোনো জবাব পাবে।
বৈঠক শেষে হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুধু তখনই একটি চুক্তি করবেন যখন সেটি আমেরিকার জন্য ভালো হবে এবং তাঁর ‘রেডলাইন’ বা চূড়ান্ত শর্তগুলোকে সন্তুষ্ট করবে। ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।”
অবশ্য ইরানের এক ঊর্ধ্বতন সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে রয়টার্সকে দাবি করেছেন, সম্ভাব্য এই নতুন চুক্তিতে পারমাণবিক সংক্রান্ত কোনো বিষয়ই অন্তর্ভুক্ত নেই। আপাতত দুই পক্ষের এই দরকষাকষির দিকেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।