
২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের পরিমার্জন আনা হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে পাঠ্যবইয়ে থাকা ঐতিহাসিক বিভ্রান্তি ও একপেশে উপস্থাপন সংশোধন করে ‘প্রকৃত ইতিহাস’ অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে এনসিটিবি চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানান, বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে পাঠ্যপুস্তক পুনর্গঠনের কাজ চলছে, যাতে শিক্ষার্থীরা নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক ইতিহাস জানতে পারে। তার ভাষায়, অতীতে পাঠ্যবইয়ে যেসব বিচ্যুতি ছিল, তা সংশোধন করে বাস্তব ইতিহাস তুলে ধরা হবে।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সব বীরের অবদান যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে ৯০-এর গণআন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাও পাঠ্যবইয়ে স্থান পাবে।
এনসিটিবি চেয়ারম্যান আরও জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যবই পরিমার্জনের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বিশেষ কর্মশালা সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রাথমিক স্তরের বই নিয়েও কাজ চলমান রয়েছে। মোট ৬০১টি পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের কাজ চলছে, যেখানে শত শত শিক্ষাবিদ, গবেষক ও অভিজ্ঞ শিক্ষক অংশ নিচ্ছেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুলাইয়ের মধ্যে পরিমার্জনের কাজ শেষ করে মুদ্রণের প্রস্তুতি নেওয়া হবে, যাতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা নতুন বই হাতে পায়।
তিনি জানান, নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষাকে আরও আনন্দময় ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা ও সংস্কৃতি’ বিষয়ক নতুন বই যুক্ত করা হবে। এতে শিশুদের শারীরিক কার্যক্রমে উৎসাহিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল আসক্তি কমানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে একটি বই অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যেখানে শেখার প্রক্রিয়াকে আরও আনন্দদায়ক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষার ওপরও নতুন বই যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের কথাও উল্লেখ করেন এনসিটিবি চেয়ারম্যান। তার মতে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির আইসিটি বইগুলো প্রায় নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক প্রযুক্তির বিষয় যুক্ত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বইয়ের সংখ্যা কমিয়ে ব্যবহারিক শিক্ষার পরিধি বাড়ানোই নতুন কারিকুলামের মূল লক্ষ্য। ২০২৮ শিক্ষাবর্ষে আরও বড় ধরনের পরিবর্তন আনার পরিকল্পনাও রয়েছে, যা একটি পূর্ণাঙ্গ নতুন শিক্ষাক্রমের রূপ নিতে পারে।
এনসিটিবি চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করেন, ২০২৭ সালের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা সংশোধিত, আধুনিক ও আরও নির্ভুল পাঠ্যপুস্তক হাতে পাবে।