.jpeg)
বৃষ্টির মধ্যেই তড়িঘড়ি করে চলছে পিচ ঢালাইয়ের কাজ। আর সেই ভেজা সড়কেই দেদারসে রোলার দিয়ে চলছে কার্পেটিং। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরারচর-আগরপুর সড়কে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) একটি উন্নয়ন প্রকল্পের এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক সংস্কারের গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে চরম শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলজিইডির অধীনে উপজেলার সরারচর বাজারের ছাগল মহল এলাকা থেকে আগরপুর বাজারসংলগ্ন স্টিল ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৭ জুলাই ঝুম বৃষ্টির মধ্যেই সড়কের প্রবেশমুখে পিচ ঢালাই করা হয়। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ভেজা রাস্তার ওপর কার্পেটিং করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা বাজিতপুর উপজেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী মো. সৌরভ হাসান জানান, তিনি কর্মরত শ্রমিকদের বৃষ্টি ও পানির মধ্যে কার্পেটিং করার বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। জবাবে শ্রমিকেরা তাকে বলেন, ‘এই বৃষ্টি বা পানি কোনো সমস্যা নয়। এর চেয়েও বেশি বৃষ্টি ও পানির মধ্যেও কাজ করা যায়। এতে কোনো সমস্যা হবে না।’
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে ভেজা সড়কের ওপরই শ্রমিকেরা পিচ ঢালাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। নেটিজেনরা নির্মাণকাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হলেও নিম্নমানের কাজের কারণে এর স্থায়িত্ব নিয়ে তারা পুরোপুরি সন্দিহান।
এ বিষয়ে বাজিতপুর উপজেলা প্রকৌশলী বনি আমিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে। এখন আর কোনো সমস্যা নেই।’ তবে ব্যস্ততার অজুহাতে তিনি অফিসে এসে কথা বলার পরামর্শ দেন।
এদিকে এলাকার সচেতন মহলের দাবি, সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত এই উন্নয়ন প্রকল্পে গুণগত মান, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ওঠা অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে সড়কটির নির্মাণমান যাচাই করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সরকারের বিপুল অর্থ অপচয় হবে বলে মনে করছেন তারা।